আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

অবাধে বালু তোলায় ভাঙছে নদীতীর

news-image

নড়াইলের কালিয়ায় একদিকে নবগঙ্গা নদীর ভাঙনে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মাধবপাশা গ্রামের মানুষ। অন্যদিকে নদীর অপর পাড়েই দেওয়াডাঙ্গা নামক স্থানে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলন করছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ রয়েছে। ওই নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে মাধবপাশা গ্রাম ও বাজারের ৩০টি বাড়ি, ১০টি দোকানসহ অসংখ্য গাছপালা ও ফসলি জমি। আরও অর্ধশতাধিক বাড়ি ও দোকানঘরসহ একটি বহু পুরোনো মসজিদ রয়েছে ভাঙন হুমকির মুখে।

দুই বছর ধরে উপজেলার প্রধান নদী নবগঙ্গার বিভিন্ন জায়গার মতো মাধবপাশা গ্রামে ভাঙন লেগেই আছে। ভাঙনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নদীর অপর পাড়ে ৮-১০টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্যার অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে বর্তমান শুস্ক মৌসুমেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ। তারা অভিযোগ করে আরও বলেছেন, ওই সময়ের মধ্যে নবগঙ্গা নদীর ভাঙনে গ্রামটির মুঞ্জিল শেখ, ইঞ্জিল শেখ, নছর মীর, রাজ্জাক শেখ, ইমান শেখ, মানুর শেখ, আত্তাব শেখ, মিজানুর শেখসহ ২৫-৩০টি বাড়ি ও মাধবপাশা বাজারের লেন্টু বিশ্বাস, বাদল শেখ ও লায়েক ফকিরের দোকানঘরসহ অন্তত ১০টি দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন পাড়ের অর্ধশত ঘরবাড়ি ও বাজারসহ মাধবপাশা বাজার জামে মসজিদটি ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি বরং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই নদীর ভাঙন এলাকার ঠিক অপর পাড়েই উপজেলার দেওয়াডাঙ্গা নামক স্থানে দুই মাস ধরে অবাধে অবৈধ বালু উত্তোলন করছেন দেওয়াডাঙ্গা গ্রামের মকবুল মোল্যার ছেলে কাজল মোল্যা।

উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আখতার উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, তিনি স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙন রোধসহ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। এমনকি সম্প্রতি কালিয়ার ইউএনও একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাধবপাশা গ্রামে গেলে তার কাছে ক্ষতিগ্রস্তরা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানালে তিনি তা আমলে নেননি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অভিযোগ করে বলেছেন, অবাধে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে শুস্ক মৌসুমেও নবগঙ্গা ভাঙছে। এর পরও কোনো পদক্ষেপই নেয়নি প্রশাসন।

সততা ও সমতা ড্রেজিং প্রকল্প নামের একটি ড্রেজার মেশিন মালিক উপজেলার দেওয়াডাঙ্গা গ্রামের টিপু সরদারের ছেলে কায়েস সরদার বলেন, তার দুটিসহ আটটি ড্রেজার কাজল মোল্যার ভাড়ায় গত এক মাস ধরে বালু উত্তোলন করছে। উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্যা বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাইরের লোকেরা রেললাইন নির্মাণের জন্য সেখান থেকে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধ করে থাকে। দু-একদিন পর আবার দেখি বালু তোলা শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ভাঙনের অপর পাড় থেকে ওই অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। কালিয়ার ইউএনও নাজমুল হুদা বলেন, মাধবপাশার নদীভাঙন ও নবগঙ্গা নদীর দেওয়াডাঙ্গা নামক স্থান থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানি। নদীর ওই চরটিকে বালুমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একাধিকবার ওই বালু উত্তোলন বন্ধ করেছি। কেউ বালু তুললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ জাতীয় আরও খবর

কোয়ারেন্টিন শেষে বিদেশফেরত ২১৯ বাংলাদেশি কারাগারে

যত্রতত্র পশুরহাটের অনুমতি দেয়া যাবে না : ওবায়দুল কাদের

ভেন্টিলেটর কাজে লাগে না, মানুষ মরে যায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনার ভয়াবহতা এখনও বাকি : ডব্লিওএইচও

আগামীকাল সকাল ১১টা থেকে সদরঘাটে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিবে তদন্ত কমিটি

সুন্দরগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

ভাগ্নিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন, এরপর বাবা-মামা মিলে হত্যা

ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় মহিলা পরিষদের উদ্বেগ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের তীব্র নিন্দা

ওয়ারীতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী তিন দিনের রিমান্ডে

ডাক্তারদের থাকা-খাওয়ার কোনো দুর্নীতি হয়নি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাহিদকে সরিয়ে মতিয়াকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করার দাবি সংসদে