বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

অমিত শাহ কলকাতায় এসে বলে গিয়েছিলেন, শীত অধিবেশনেই তা হতে চলেছে

নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে জনজাগরণ সভা ডেকেছিল রাজ্য বিজেপি। সেই সভায় ভাষণ দিতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ তথা এনআরসি নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে তাকে কী ভাবে দলীয় কর্মীরা মোকাবিলা করবেন, তারই পাঠ দিতে দিল্লি থেকে কলকাতায় উড়ে এসেছিলেন শাহ। কিন্তু শাহের গোটা বক্তৃতায় এনআরসি ছিলই না। তার চেয়ে বরং বক্তৃতার বেশির ভাগ অংশ জুড়েই ছিল নাগরিকত্ব সংশোধন বিল। যে কথা পুজোর আগে এসে অমিত শাহ বলে গিয়েছিলেন, মনে করা হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই সেই নাগরিকত্ব সংশোধন বিল নিয়ে আসবে কেন্দ্র। এবং তা পাশও করানো হবে ওই অধিবেশনে।

এই বিল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “কোনও হিন্দুকে বাংলা থেকে কোথাও যেতে হবে না। তাঁরা নাগরিকত্ব পাবেন। তাঁদের ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার অধিকার দেবে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার।” একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “শুধু হিন্দু কেন, শিখ, খ্রীষ্টান, জৈন—কাউকেই এ দেশ ছেড়ে যেতে হবে না। কিন্তু একজন অনুপ্রবেশকারীকেও থাকতে দেওয়া হবে না। খুঁজে বার করে তাড়ানো হবে।”

অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ থেকে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার পর বাংলার মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক দানা বাঁধে। বিরোধী দলগুলি বিশেষত তৃণমূলের তরফে লাগাতার প্রচার করা হয়, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই দেশ ছাড়া করবে। ফলে ভিটে ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে এ দেশে আসা মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হবে এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, গোটা ব্যাপারটা এমন জায়গায় যায় যে, যাতে বিজেপি-র নেতারাও চাপে পড়ে যান। কলোনি এলাকার বিজেপি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে থাকে। রাজ্য বিজেপি তাই ঠিক করেছিল অমিত শাহকে এনেই এ ব্যাপারে পরিষ্কার কথা বলানো হোক। দলের অবস্থান আগে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট হোক। তাই নেতাজি ইনডোরে শাহ বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা মানুষের বাড়ি বাড়ি যান। গিয়ে বলুন এই সরকার একজন হিন্দুরও কোনও ক্ষতি হতে দেবে না।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগে যতটা এনআরসি নিয়ে তৃণমূল সোচ্চার ছিল, লোকসভা ভোটের পর তাতে কিছুটা ভাটা পড়ে। অনেকের মতে, বাংলার শাসকদল লোকসভা ভোটে যে ধাক্কা খেয়েছে, তাতে খানিকটা দিশাহারাই হয়ে পড়েছিল। তাই হিন্দু ভোটের বালাই থেকেই কিছুটা চুপ করে ছিল তৃণমূল। পরে আবার রাস্তায় নেমেছে তারা। স্বয়ং ম্যুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করেছিলেন । তৃণমূলের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরও দলীয় নেতাদের বার্তা দিয়েছেন, এনআরসি নিয়ে ঘরে ঘরে প্রচার করতে হবে। আর তৃণমূলের এই খেলাটাকেই ভেস্তে দিতে চাইছেন অমিত শাহরা। শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিয়ে হিন্দুদের নিজেদের কাছে ধরে রাখতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্বিতীয় মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে তিন তালাক হোক বা জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া—এক এক করে কার্যকর করে ফেলেছে। এবার নাগরিকত্ব সংশোধন বিল।