বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

এদিনের অপেক্ষায় ছিলাম: এসি রবিউলের মা

হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রবিউল করিমের মা করিমুন নেছা বলেছেন, তিন বছর ধরে এদিনের অপেক্ষায় ছিলাম। আজকে যে রায় হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। শিগগির এ রায়ের বাস্তবায়ন হোক এখন এটাই চাওয়া।
করিমুন নেছা বলেন, এ রায় দ্রুত বাস্তবায়ন হলে মনের ভেতরের বেদনাটা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। আমি যেন এ রায়ের বাস্তবায়ন দেখে মরতে পারি। এ রায় কার্যকরের মাধ্যমে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) চাঞ্চল্যকর হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এসি রবিউল করিমের পরিবারের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। তারা বলছেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

সন্ত্রাসী হামলা মামলায় আট আসামির মধ্যে সাতজনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত এবং বেকসুর খালাস পেয়েছেন একজন।
শহীদ রবিউল করিমের ছোট ভাই শামসুজ্জামান সামস বলেন, এ মামলার রায়ের মাধ্যমে আইনের সু-শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। রায়ে আমার পরিবারের সদস্যরা খুশি হয়েছেন। এখন আমরা চাই এ রায় 3্সরু2ময়ের মধ্যে কার্যকর করা হোক।
শহীদ রবিউল করিমের প্রতিবেশী মোবারক হোসেন বলেন, এ রায়ে আমরা খুশি হয়েছি। এখন এ রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমাদের মনের জমানো কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (আত্মঘাতী) সদস্যরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি।
ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
একই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু নির্দেশ দেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান।
এক বছরের বিচারকালে মামলার মোট ২১১ জন সাক্ষীর ১১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে গত ১৭ নভেম্বর এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। ওইদিনই আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।