বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

ওসমানী মেডিকেল: সাবেক উপপরিচালকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

ভুয়া বিল দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালকসহ তিনজানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিন (দুদক)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম ১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি তিনি জানান।

আসামিরা হলেন হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. আবদুস সালাম, হিসাবরক্ষক আবদুল কুদ্দুস আটিয়া ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু তাহের।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল রিকুইজিটস (এমএসআর) সামগ্রী সরবরাহ না করেই আসামিরা ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৮১ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এই অভিযোগে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক, বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২৪ মে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এতে ওসমানী হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুস সবুর মিয়াসহ ২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২৮ জুন ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারের মেসার্স তাহের এন্টারপ্রাইজ এই সামগ্রী সরবরাহের দায়িত্ব পায়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ না করেই ৫টি ভুয়া বিল হাসপাতালে দাখিল করে।

তখন হাসপাতালের তৎকালীন হিসাবরক্ষক আবদুল কুদ্দুস আটিয়া কোনো পণ্য বুঝে না পেয়েও পারস্পরিক যোগসাজশে ভুয়া বিলগুলো প্রস্তুত করে হাসপাতালের তখনকার উপপরিচালক ডা. আবদুস সালামের কাছে উপস্থাপন করেন। তারা তিনজন ৫টি টোকেনের মাধ্যমে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক চৌহাট্টা শাখা হিসাব নম্বর ০২১০০১৩৭০ ও ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক আম্বরখানা শাখা, হিসাব নম্বর ০২০১১১০০০০৬৬৫৪ থেকে প্রথমে ৩৯ লাখ ৭ হাজার ৩০৯ টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু  পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে মামলার ৩ নম্বর আসামি ডা. আবদুস সালাম মেসার্স তাহের এন্টারপ্রাইজকে টাকাগুলো ফেরত দিতে বলেন। কিন্তু তাহের এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে ৯ লাখ ২৯ হাজার ১২৮ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৮১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

ওসমানী হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, মামলা দায়েরের পর হিসাবরক্ষক আবদুল কুদ্দুস আটিয়া আমেরিকায় চলে যান। এখন তিনি সেখানেই আছেন। অন্য দুই আসামি ডা. আবদুস সালাম ও ঠিকাদার আবু তাহের বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।