বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

নবাবগঞ্জে গুচ্ছগ্রামের ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকৃতি ভুমিহীনদের জন্য ঘর ববাদ্দ পাওয়ার কথা থাকলেও তা না করে অর্থের বিনিময়ে বিত্তমানদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান রহিম বাদশা বিরুদ্ধে।

মাহমুদপুর ইউনিয়নের বানমারী গুচ্ছগ্রামের ভূমিহীনদের মাঝে ঘর বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার ভূমিহীনরা।

তাদের অভিযোগ মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রহিম বাদশা ঘর বরাদ্দের নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন । চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায় ঘর বরাদ্দ আশাবাদি ভুমিহীন পরিবারগুলি চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে ।

তবে ইউপি মাহমুদপুর চেয়ারম্যান রহিম বাদশার দাবি ঘর বরাদ্দে কোনও অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়নি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মশিউর রহমান বলেন, ভুমিহীনদের একটা অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টির তদন্ত পূর্বক সমাধান করা হবে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে বানমারী গ্রামের বাসিন্দা জানান, নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮ নং মাহমুদ ইউনিয়নের বানমারী এলাকার সরকারী একটি পুকুরপাড়ে নিজের সাধ্যমত মাটি ও বেড়ার ঘর বানিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন ৩৫ টি ভূমিহীন পরিবার।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকার ওই বানমারী গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ৫০ টি ঘর নির্মান করেন। প্রতিটি ঘর নির্মানের ব্যয় হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বানমারী গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতি হেমরন, বাহামনি সরেন, প্রদীপ মার্ড্ডি, খোতেজা বেগম, নিলুফা বেগম, আব্দুল মমিন, মানিক মূমূসহ ১৫ জন ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন, বানমারী গুচ্ছগ্রামে ঘর নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই ইউপি চেয়ারম্যান রহিম বাদশা অন্য এলাকার মানুষদের অর্থের বিনিময়ে কিছু ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। যারা চাহিদামত অর্থ দিতে পারেননি- তাদের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে । মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে বহিরাগতদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। তারা প্রতিবাদ করলে দালাল রেজাউল, রাম পাল, আলতাফ হোসেন, মাহা আলম ও দবিরুল ইসলাম তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান রহিম বাদশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঘর বরাদ্দে কোনও অর্থ নেয়া হয়নি। নিয়মনীতি মেনেই ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মশিউর রহমান বলেন, ঘর বরাদ্দে বিয়ষটি আমলে নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। তবে সেখানে কোন অনিয়ম বা অর্থ আদায়ের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে দুই সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস থাকায় ঘর বরাদ্দে কিছুটি সমস্যা ছিল। সরেজমিন গিয়ে তা সমাধান করা হয়েছে।- পূর্বপশ্চিমবিডি