আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

প্রয়োজনে নিজের খাবার সবার সাথে ভাগ করে খাবঃ রমজান আলী

সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ :মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার অন্যতম একটি ইউনিয়ন তালেবপুর। যেখানকার বর্তমান চেয়ারম্যান রমজান আলী। নিজের কর্মদক্ষতা আর পরোপকারীর জলন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি পর পর দুইবার বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। জনপ্রিয় এ চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন শ্রমিক নেতা ছিলেন। তখন থেকেই মূলত তিনি খেটে খাওয়া মানুষের দুঃখ দৈন্যতা মর্মে মর্মে উপলদ্ধি করেছিলেন। তাদের সেই দুঃখ কষ্ট লাঘবের মানসিকতা নিয়ে তিনি তালেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বৈশ্বিক এ মহামারি ক্ষণে তিনি দলীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে যে পোষ্টটি দিয়েছেন তা সত্যিই সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রশংসার দাবিদার। তার পোষ্টটি এই রকম-“কেউ যদি আর্থিক সমস্যায় পড়েন এবং খাবার শেষ হয়ে যায়, আপনি যে ধর্মের বা গোত্রেরই হোন না কেন, আমার ব্যক্তিগত নম্বর ০১৭১৮-৬৬৪২৪০-এ ম্যাসেজ বা ফোন করতে সংকোচ বোধ করবেন না। আমি আপনার সাথে আমার খাবার ভাগাভাগি করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করবো। আপনার কোন প্রতিবেশী যদি নিরন্ন থাকে তার ব্যাপারে আমাকে আবহিত করুন। খাবার অভাবে নিজে না খেয়ে ঘুমাবেন না, অন্যকে ঘুমাতে দিবেন না। এই কঠিন সময়ে আমাদের এক্যবদ্ধ হতে হবে এবং একটু কম স্বার্থপর হতে হবে। আল্লাহ আমাদের এইসাথে এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি দিন”।

ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের রহিমুদ্দিন জানান, রমজান চেয়ারম্যান আসার পর আমাদের ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যাতায়াত ব্যস্থাসহ শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। আমরা সব সময় তার পাশে আছি, থাকবো।বাঘারচর গ্রামের দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, একজন চেয়ারম্যান যে এত সহজ সরল এবং উদার মনের হতে পারে-রমজান চেয়ারম্যানের সাথে না মিশলে জানতে পারতাম না। আমরা তাকে এখন আমাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করি। গরীবের বিয়ে, লেখা পড়ার খরচসহ যে কোন বিষয়ে তার কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে কেউ কখনো বিমুখ হয়নি। তবে তিনি মাদকের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। রমজান আলী চেয়ারম্যান হবার পর তালেবপুর ইউনিয়নে মাদকসেবি অনেক কমে গেছে।

কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, রমজান আলীকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি। তিনি অন্যায়কারীর কাছে আজরাইল স্বরূপ, আর ন্যায়ের কাছে তিনি মানবতার বিমূর্ত প্রতিক। তিনি দীর্ঘদিন শ্রমিক নেতা ছিলেন। দুই টার্ম যাবৎ তালেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছেন। অথচ তার বাড়ি দেখলে মনে হবে না এটি একজন চেয়ারম্যানের বাড়ি। তার বাপ দাদা যেভাবে করেছিলেন ঠিক সেভাবেই আছে। শুধু বাড়ি ঘর নয়, মানুষ হিসেবেও তার বিন্দু পরিবর্তন ঘটেনি। কোন অহমিকা, দাম্ভিকতা আর হিংসা যেন তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। এক কথায় বলতে গেলে, একজন সাদা মনের মানুষের নাম হচ্ছে রমজান চেয়ারম্যান।

রমজান চেয়ারম্যান জানান, এই দুনিয়ায় চিরদিন থাকা যাবে না। আসার সিরিয়াল আছে, যাওয়ার কোন সিরিয়াল নেই। আমি মনে প্রাণে ধর্মগ্রন্থ্য বিশ্বাস করি এবং মেনে চলার চেষ্টা করি। প্রত্যেক ধর্মেই মানবতার জয়গান করা হয়েছে। তাই আমি যথাসাধ্য মানব সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার সামান্য দানে কেউ যদি বিন্দু উপকৃত হয়-তবে আমি মনে করবো আমার মানব জীবন সার্থক।

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা মোবাইল ফোনে প্রতিবেদককে বলেন, চেয়ারম্যান রমজান আলী যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।