বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশ শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে ‘বলিষ্ঠ অগ্রগতি’ অর্জনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বেলারুশ, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, মালাউই, মরোক্কো, মঙ্গোলিয়া, রুয়ান্ড, পূর্ব তিমুর, জাম্বিয়া ও বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃমৃত্যুর জটিলতা কাটিয়ে বলিষ্ঠ অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে।এমন তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্ক থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই দেশগুলোতে ২০০০ সালের পর থেকে শিশুমৃত্যু প্রায় অর্ধেক এবং মাতৃমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।

ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বে শিশু ও মাতৃমৃত্যু বিষয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর তৈরি করা নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে অধিক মা-শিশুরা বেঁচে যাচ্ছে।

তবে দুঃখের চিত্র হচ্ছে এমন সফলতার পরও বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতি ১১ সেকেন্ডে একজন গর্ভবতী নারী বা নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে।তবে ২০০০ সালের পর থেকে ১৫ বছরের নিচের শিশুমৃত্যুর পরিমাণ ১ কোটি ৪২ লাখ থেকে ৫৬ শতাংশ কমে ২০১৮ সালে ৬২ লাখে দাঁড়িয়েছে।
আর এবছর প্রকাশিত হিসাবে বলা হয়েছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে বিশ্বব্যাপী দেশ ভেদে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সাব-সাহারা আফ্রিকার নারী ও শিশুরা। এই অঞ্চলে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি এখনও।উন্নত দেশের তুলনায় সাব-সাহারায় মাতৃমৃত্যুর হার প্রায় ৫০ গুণ বেশি। আর তাদের শিশুরা জীবনের প্রথম মাসে মারা যায় ওই তুলনায় ১০ গুণ বেশি হারে।

ডব্লিউএইচও বলছে, স্বাস্থ্যকর্মী খাতে বিনিয়োগ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে সেবা চালু এবং পরিবার পরিকল্পনায় সহায়তার মাধ্যমে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে সফলতা এসেছে মৃত্যু রোধের সংখ্যায়।

সংস্থাগুলোর জরিপ বলছে, শুধু সরকারি বিনিয়োগ বা সচেতনতা নয় বেসরকারি উদ্যোগেই এসব দেশের অনেকগুলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রকল্প গড়ে উঠেছে। নতুন হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে, ২০১৮ সালে ১৫ বছরের নিচের বয়সী ৬২ লাখ শিশু মারা গেছে। আর আগের বছর গর্ভধারণ ও প্রসব সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন ২ লাখ ৯০ হাজারের অধিক নারী।মারা যাওয়া মোট শিশুদের মধ্যে ৫৩ লাখের মৃত্যু হয়েছে প্রথম ৫ বছরের মাঝে। যাদের প্রায় অর্ধেকই মারা গেছে জীবনের প্রথম মাসে। প্রসবকালে ও তার পরের সময়টিতে সবচেয়ে নাজুক থাকে নারী ও নবজাতকরা। নতুন হিসাবে বলা হচ্ছে, গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের মধ্যে প্রতি বছর ২৮ লাখ বা প্রতি ১১ সেকেন্ডে একজন মারা যায়। যার বেশিরভাগ কারণই প্রতিরোধযোগ্য।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ডা. টেডরস আডানম গেব্রিয়াস বলেছেন, যেসব দেশ প্রত্যেককে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও উচ্চ মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেয় সেখানে নারী ও শিশুরা বেঁচে যায় এবং সমৃদ্ধি লাভ করে। এটাই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার শক্তি।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন,‘পৃথিবী জুড়ে শিশুর জন্ম এক আনন্দময় উপলক্ষ।তথাপি, প্রতি ১১ সেকেন্ডে একটি জন্ম একটি পারিবারিক বিষাদে পরিণত হয়।’‘জন্মের সময় মা ও নবজাতককে সাহায্যের জন্য এক জোড়া দক্ষ হাতের পাশাপাশি পরিষ্কার পানি, পর্যাপ্ত পুষ্টি, প্রাথমিক ওষুধ ও টিকা জীবন ও মৃত্যুর মাঝে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। এ মূল্যবান জীবনগুলো রক্ষা করতে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনিয়োগে প্রয়োজনীয় সবকিছু আমাদের অবশ্যই করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।