বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা ৫ গুণ বেড়েছে

২০১৭-১৮ অর্থবছরে মুনাফা হয় ৭৯২ কোটি টাকা, আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মুনাফা হয় ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। মূলত স্থানীয় ব্যাংকগুলোর বড় ধরনের তারল্য সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি এবং ও ডলারের দর বাড়ায় মুনাফা এতটা বেড়েছে। সমকাল

নিয়ন্ত্রক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ করে। প্রয়োজনের সময় কখনও ডলার বিক্রি বা ক্রয় করে। এছাড়া মুদ্রানীতি ব্যবস্থাপনার জন্য রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ধার দেয়া, রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলে নেয়াসহ নানা কাজ করে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশ ডলারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া সোনা, ইউরোসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ সংরক্ষিত আছে। এসব কার্যক্রম থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা হয়ে থাকে।

বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত অর্থবছর ব্যাংকগুলোর কাছে ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ভালো মুনাফা হয়। এছাড়া বর্তমানের ৩২ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ বিভিন্ন মুদ্রায় বিনিয়োগ রয়েছে। এ থেকেও আয় এসেছে। বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া ডলার বিক্রির ফলে গত অর্থবছর ২০ হাজার কোটি টাকা উঠে এসেছে। যদিও তাতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেয়।

সংকট মেটাতে ব্যাংকগুলো ডলার কেনার পাশাপাশি রেপো, স্পেশাল রেপো ও বিশেষ তারল্য সহায়তার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা ধার করে। এসব ধারের বিপরীতে ৬ শতাংশ সুদ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বাইরে বিভিন্ন মুদ্রায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে রিজার্ভ রেখেছে ইউরো ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার দর বেড়েছে। এসব মিলেই বেড়ে যায় মুনাফা ।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, এক বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে ৩ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক কোনো বছরে এত মুনাফা হয়নি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করলেও মুনাফা হয় মাত্র ৭৯২ কোটি টাকা।