বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

বাঞ্ছারামপুরে পুলিশ পেটানো সেই যুবলীগ সভাপতি বহিষ্কার

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মির্জা মোজাম্মেল হক অপুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে বাধা দেয়ায় পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করেন মোজাম্মেল হক অপু।

মঙ্গলবার বিকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় অপুর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সায়েদুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. তফাজ্জল হোসেন।

এদিকে পিইসি পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে পেটানোর ঘটনায় সোমবার রাতে ১০ জনকে গ্রেফতার করে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ। তাদেরকে মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন সাহেবনগর গ্রামের প্রধান আসামি যুবলীগ সভাপতি মির্জা মোজাম্মেল হক অপুর পিতা মির্জা ইসমত-ই-নূর ওরফে বাচ্চু মিয়া, আবুল কালাম, দেলোয়ার হোসেন, চন্দন দাস, ছলিমাবাদ গ্রামের সুজন মিয়া, তাইজুল ইসলাম, সাজিদ মিয়া, জিলানী মিয়া, বিল্পব মিয়া, সোহেল রানা।

তবে গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের দাবি, তারা কেউ পুলিশ হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না।

উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মির্জা মোজাম্মেল হক অপু তার ভাগিনাকে নকল সরবরাহ করতে যান। এ সময় পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম বাধা দিলে তাকে পিটিয়ে আহত করেন অপু।

এই ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব পারভীন আক্তার বাদী হয়ে মির্জা মোজাম্মেল হক অপুকে প্রধান আসামি করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

এ বিষয়ে অপুর ভাই ছলিমাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার ভাই বাজারে গিয়েছিল। রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে তাকে পুলিশ চালান করে দিয়েছে। আমি এই ঘটনার নিন্দা জানাই। আমার ভাইয়ের মতো নির্দোষ অনেককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ছলিমাবাদ কেন্দ্রে আমাদের পুলিশ সদস্যকে হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি অপুর পিতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে তাদেকেই গ্রেফতার করেছি।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সায়েদুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল বলেন, দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে দলীয় শৃঙ্গলা ভঙ্গের অভিযোগে অপুকে বহিষ্কার করা হয়েছে।