বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

রিফাত হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ: আদালতে মিন্নি

রগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় পুলিশের দাখিল করা দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছে আদালত। বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে চার্জশিট গ্রহণ করেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

এদিন আদালতে হাজির হন রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

আদালত পলাতক নয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৪ আসামিকে শিশু আদালতে বিচারের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ও প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ আসামির জন্য ৩ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া আসামিরা হলো মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), মো. মুসা (২২), রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), আবু আবদুল্লাহ ওরফে রায়হান(১৬) মো. নাইম (১৭), রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭) ও প্রিন্স মোল্লা (১৫)।

এ ছাড়া মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামি আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল হাসান সায়মুনের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

এর আগে সকাল ১০টায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাত হত্যা মামলার সাত আসামিকে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ আদালতে হাজির হন।

মিন্নি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। এরপর আদালতের ভেতরে একটি কক্ষে অবস্থান নেন। ১১টার দিকে আদালত থেকে বেরিয়ে যান। ১টার দিকে আবার আদালতে চলে আসেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে আড়াইটার দিকে বেরিয়ে যান।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় হাজির হতে মিন্নিকে নিয়ে আদালতে এসেছিলাম। পুলিশের অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেছে। আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

রিফাত হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এম মুজিবুল হক কিসলু বলেন, এ মামলায় মোট দুটি ভাগে ২৪ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে ১০ জনকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ও বাকি ১৪ জনকে শিশু আদালতে বিচারের জন্য আলাদা করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাত ফরাজীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। বরগুনা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে রিফাত দুই নং আসামি ছিলেন। মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে করা হয়েছে সাত নম্বর আসামি। কিশোর আদালতে বিচারের জন্য রিশান ফরাজীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আদালত শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। পলাতক নয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিশু অপরাধীদের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ও প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের জন্য ৩ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।

তিনি আরো বলেন,  আমরা এখনো অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। আমরা সই মোহরের আবেদন করেছি, যে কোনো মুহূর্তে অভিযোগপত্র হাতে পাবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করব।

১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয় কিশোর অপরাধী শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। এ ছাড়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ জামিনে রয়েছেন দুজন।

রিফাত শরীফ হত্যায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হচ্ছে রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯), মো. মুসা (২২), আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

শিশু অপরাধী হিসেবে চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হচ্ছে রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), আবু আবদুল্লাহ ওরফে রায়হান (১৬), ওলিউল্লাহ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), মো. নাইম (১৭), তানভীর হোসেন (১৭), নাজমুল হাসান (১৪), রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭), প্রিন্স মোল্লা (১৫), রাতুল শিকদার জয় (১৬) ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ (১৬)।

২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তখন মামলার এক নম্বর সাক্ষী ছিলেন মিন্নি। পরে তাকে আসামি করা হয় এ মামলায়।