বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, তারা যত দ্রুত নিজেদের দেশে ফিরে যাবে, ততই বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য মঙ্গল।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিবেশ ও সমুদ্র বিষয়ক দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের কারণে ওই এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নিজেদের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২২ থেকে ২৪ শতাংশ অঞ্চল গাছপালায় আচ্ছাদিত হবে। এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বকে বিনিয়োগে আরও বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

সুন্দরবনকে আমরা যথাযথভাবে রক্ষা করছি মন্তব্য করে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, এটি আমাদের দেশের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নানান সময়ে বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশের বন ধ্বংস ও নদী দূষণ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর অন্যতম একটি প্রধান কারণ আমাদের দেশের জনসংখ্যা। শহরগুলো অতিরিক্ত মানুষের চাপে শ্বাস নিতে পারছে না। তবুও পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এগিয়ে আছে।

পরিবেশের কোনো সীমান্ত নেই মন্তব্য করে ভারতের পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভাদকার বলেন, ভারত সমুদ্র ও মাটি দু’স্থানেই পরিবেশ দূষণ রোধে কাজ করে যাচ্ছে। এ দূষণ রোধে দক্ষিণ এশিয়ার সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মালদ্বীপের পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী আহমেদ মোস্তবা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এডিবির জলবায়ু এবং অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আমাদের বার্ষিক জিডিপি দু’শতাংশ কমে যাবে। সেদিক থেকে আমাদের আরও বেশি করে সচেতনতা তৈরি এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

উদ্ভিদকুল, জলজ প্রাণী ও দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে জানিয়ে উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ পাটের ব্যাগ ব্যবহারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা কর্মসূচির মহা-পরিচালক ড. আব্বাস বশির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী প্রমুখ।