বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

শাহজাদপুরের জগতলায় যমুনা নদী থেকে ড্রেজার-বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী ভাঙ্গনের আশংকা

যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের জগতলায় জনবসতি ও নদীতীর রক্ষা বাধ সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজার ও বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে দেদারসে তোলা হচ্ছে বালু। যমুনা নদী থেকে তোলা এই বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। জনবসতিপূর্ন ও নদীতীর রক্ষা বাধ এলাকা থেকে অবৈধভাবে প্রতিনিয়ত বালু তোলায় নদী ভাঙ্গন আশংকায় ভুগছে এলাকাবাসি। যমুনার নির্ধারিত বালু মহালের বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন জেলার ঐ উপজেলার জগতলা গ্রাম ঘুড়ে, স্থানীয় এলাকাবাসি ও শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর জমা হওয়া বালু অপসারনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত একটি বালুমহল রয়েছে। অনুমোদিত এই বালুমহলের ইজারাদারেরা নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এর বাইরেও এই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যমুনা নদী থেকে অভৈধভাবে ড্রেজার ও বলগেট ব্যাবহার করে বালু তোলা হচ্ছে। উপজেলার যমুনা নদী বেষ্টিত কৈজুরি ইউনিয়নের জগতলায়ও চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শাহাদৎ হোসেন, একই ইউনিয়নের এক নারী ইউপি সদস্যের স্বামী নাসির উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য শফিসহ বেশ কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ন্ত্রন করছেন জগতলার এই অবৈধ বালু ব্যাবসা। সোমবার সরেজমিন জগতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অন্তত ৫টি ড্রেজার ও বলগেট মেশিন দিয়ে জগতলা গ্রামের মাঝ দিয়ে নির্মিত নদীতীর রক্ষা বাধ সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে গালা ইউনিয়নে বিক্রি করছে। এছাড়া জনবসতিপূর্ন এই এলাকা থেকে তোলা বালু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরবর্তীতে বিক্রির জন্য স্টক করে রাখা হচ্ছে।

জনবসতিপূর্ন ও বাধ এলাকা থেকে বালু তোলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বালু ব্যাবসায়ি নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ যমুনা নদীর এই স্থান থেকে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছরের মত এবছরেও বালু তোলা হচ্ছে। প্রতিবছর বালি বিক্রি করা হলেও এবছর নিজেদের বসতবাড়ি নির্মানের প্রয়োজনে বালু তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি, সরকারদলীয় প্রভাবশালি নেতা ও স্থানীয় একটি চক্রের অনুমতি ও নির্দেশেই বালু তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে এই অবৈধ বালু ব্যাবসায়ি আরো বলেন, বালু উত্তোলন, জমা করা ও বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য লিখিত প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হয়না।

এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ জনবসতিপূর্ন এলাকা থেকে এভাবে বালু তোলায় জগতলা গ্রামবাসি নদী ভাঙ্গনের আশংকায় ভুগছেন। এই এলাকা দিয়ে নির্মিত পাচিল থেকে ভেড়াখোলা পর্যন্ত নদীতীর রক্ষা বাধে ভাঙ্গনের আশংকাও করছেন অনেকে। কিন্তু প্রভাবশালি এই চক্রটির বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না কেউ।

এ বিষয়ে জগতলা গ্রামের নুর হোসেন শওকত জানান, দীর্ঘদিন অন্যায়ভাবে এই বালু তোলার কাজ চলছে। এভাবে বালু উত্তোলন চললে আমাদের জমি-জমা, ঘড়-বাড়ি যমুনা নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। বালু উত্তোলনকারিরা বিভিন্ন প্রভাবশালি ব্যাক্তিকে ম্যানেজ করেই এই অভৈধ কাজ করছে, ফলে প্রশাসনও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

শাহজাদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনেরও অজানা নয়। অবৈধ এই বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় অভিযান। এই সকল অভিযানে ড্রেজার, বলগেটসহ বালু উত্তোলনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আটক করা হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। জগতলায় বালু উত্তোলনে ব্যাবহৃত ড্রেজার-বলগেটও কিছুদিন আগে আটক করা হয়। কিন্তু আটকের দুদিনের মধ্যেই আবারও ছাড়িয়ে নিয়ে এই সকল সরঞ্জামাদি একই স্থানে বালু উত্তোলনে ব্যাবহার করা শুরু হয়।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউ এন ও) শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা জানান, অনুমোদন ছাড়া যমুনা নদীর শাহজাদপুর উপজেলার কোন অংশে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে। জগতলায় বালু উত্তোলন করার বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানিনা। ঐ স্থানটি যেহেতু বালু মহলের অন্তভুক্ত নয় ফলে অবৈধ এই বালু উত্তোলন বন্ধে অতিদ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।