আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সোনারগাঁয়ে নদী দখল করে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা

news-image

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় নদী দখল করে ব্যাটারি ও পরিত্যক্ত সিলভার, বিভিন্ন এনার্জি ডিংকের ক্যান গালানোর কারখানা গড়ে উঠেছে। তানিয়া মেটাল ওয়ার্কস নামের এ কারখানার অ্যাসিডের প্রকট গন্ধে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

কারখানাটির পাশেই দৈনিক বাজার ও বসতবাড়ি। অদূরে নুনেরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়। কারখানা সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে কয়েক গ্রামের শতশত মানুষের চলাচল।

শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের চরাঞ্চল নুনেরটেক ডিয়ারা (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় মেঘনা নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে পরিত্যক্ত ও ব্যবহারের অনুপোযোগি সিলভার, ব্যাটারির প্লেট গালানোর কারখানা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে টোকাইকারদের মাধ্যমে সংগৃহীত এসব পরিত্যাক্ত এ্যালুমিনিয়াম ক্যান ক্রয় করে ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল ও এসিড দিয়ে গলানো হয়। শ্রমিকরা জীবনের নিরাপত্তা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে গালানোর কাজ করছেন। এখানে নেই কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কারখানার ভেতরে কেউ পুরোনো ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট (ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত) বের করছেন। কেউ পরিত্যক্ত ক্যান, সিলভার ও ট্যাবলেটের পরিত্যাক্ত পাতা চুল্লিতে দিচ্ছেন। কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা জানান, চুল্লির মধ্যে কাঠ ও কয়লায় অ্যাসিড মিশ্রিত ব্যাটারির বর্জ্য বা প্লেট, ক্যান, সিলভার ও ট্যাবলেটের পাতা সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিলে তা গলতে থাকে। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সিসা তৈরি হয়। কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। দূষিত কালো ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে কয়েকগ্রামের মানুষ।

এলাকাবাসী জানান, কারখানার বিষাক্ত ধোয়ায় ফসল এবং নদীতে বর্জ্যমিশ্রিত তরল নিষ্কাসনের ফলে নদীর মাছ মরে ভেসে উঠে। এ ছাড়া কারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্য খেয়ে এলাকার প্রায় দুইশত হাঁস মারা গেছে। দূষণের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বয়স্ক ও শিশুরা শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছে।

কারখানার মালিক আ. জব্বার জানান, পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় গত বছর এসিল্যান্ড ৩০ হাজার টাকা জড়িমানা করেছেন। এ ছাড়া আমি নদী দখলের সাথে জড়িত নই।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার সাহা বলেন, ব্যাটারি ও পরিত্যক্ত সিলভার এবং এনার্জি ডিংয়ের বর্জ্য পুড়িয়ে সিসা তৈরি করলে তা আশপাশে থাকা মানুষের শরীরে পয়জনিং (রক্তকণিকা ও মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতি করা) সৃষ্টি করে। এর ফলে মানসিক বিকৃতি, রক্তশূন্যতা ও মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন হতে পারে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার জানান, পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া কেউ কারখানা পরিচালনা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে নদী দখল ও পরিবেশের ক্ষতি করে কেউ কারখানা চালালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

জাতিসংঘে আর্টিকেল ১৯: সাংবাদিক কাজলকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে

শতকোটি টাকার হাঁস প্রজনন কেন্দ্রের বাচ্চা ফোটে কাগজে-কলমে

পরিত্যক্ত ঘোষণার ৩০ বছর পরও ভবনে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কাজ

‘তথ্য অধিকার, সংকটে হাতিয়ার’ প্রসঙ্গ: স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ মরতুজা আহমদ প্রধান তথ্য কমিশনার

মোবাইলের লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ, কিশোর আটক

ডোমার খাদ্য গুদামে চাল দেননি চুক্তিবদ্ধ ৪৯ মিলার

গণধর্ষণের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এমসি কলেজে পুলিশ কমিশনার

গাজীপুরে পুলিশের অস্ত্র-গুলি ছিনতাই

যৌন নির্যাতনের শিকার পাঁচ বছরের শিশু, হাসপাতালে ভর্তি

ভ্রূণ হত্যা, নির্যাতন, যৌতুক দাবি- তিন অভিযোগে এসআইয়ের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

এমসি কলেজে গণধর্ষণ: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের ধরতে অভিযান

ভেন্টিলেশন সাপোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল, দোয়া চেয়েছে পরিবার