বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

স্ত্রীকে খুন করে সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে থানা জিডি স্বামীর

দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম করেন। থানায় নিখোঁজ জিডিও করেন। এরপরও রেহাই পেলেন না স্বামী। লাশের গন্ধে টের পেয়ে গেল প্রতিবেশীরা। স্বামীকে নিয়ে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হলো লাশ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সোনাতলা গ্রামে।

কালিগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন বলেন, উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামের কালাচাঁদ কারিগরের ছেলে শহীদুল ইসলাম ১৭ নভেম্বর রবিবার থেকে স্ত্রী মারুফা বেগমকে (২৬) পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে থানায় ১৯ নভেম্বর একটি জিডি করেন। কিন্তু তার কথাবার্তায় শুরু থেকে পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ তদন্ত কাজ চালাতে থাকে। এর মধ্যে বুধবার তার বাড়ি থেকে একটু দূরের পুকুরের পাশের লেট্রিনের সেপটিক ট্যাংক থেকে উৎকট গন্ধ আসতে থাকে।

স্থানীয় সোর্সদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায় এবং লুকিয়ে রাখা নিহত স্ত্রী’র লাশ শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে।

ওসি দেলোয়ার জানান, হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে সবার সামনে শহীদুল স্বীকার করে স্ত্রী মারুফাকে তিনি জিডি করার আগের দিন গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং লাশ গোপন করতে শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন।

শহীদুল ইসলামের আগেও এক স্ত্রী ছিলেন। তিনিও দাম্পত্য কলহে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। সেখানেও তার দুটি সন্তান রয়েছে। নিহত মারুফারও পাঁচ বছরের এক ছেলে আছে।

ওসি আরও জানান, মারুফা হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় মামলার জন্য আইনি কার্যক্রম অব্যাহত আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়েছে।