All posts by মোঃ মোশেদুর রহমান, জিয়া ক্রাইম ভয়েস ২৪ ডট কম

তারাবির নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা: ধর্ম মন্ত্রণালয়

পবিত্র রমজান মাসে এশার জামাত ও তারাবির নামাজে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, খাদেম ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সরকারি এই নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা রমজানে তারাবির নামাজ ঘরে আদায় করার নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় বাংলাদেশে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম জনসাধারণকে মসজিদে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন মুসল্লির উপস্থিতিতে নামাজ আদায় করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে গত ৬ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আগের বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় নতুন এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানে এশার জামায়াতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, খাদিম ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এশার জামায়াত শেষে এ ১২ জনই মসজিদে তারাবিহর নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্যান্য মুসল্লিরা নিজ নিজ ঘরে এশা ও তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন।

সিরাজগঞ্জে পিতা-পুত্র করোনায় আক্রান্ত

সুজন সরকার সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্ত পিতা পুত্রের বাড়ি উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়নের মাজনাবাড়ি গ্রামে। এদের একজন মুদি দোকানী পিতার বয়স ৬৪ বছর। পুত্রের বয়স ৩৫ বছর বলে জানা গেছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গত ২২ এপ্রিল সর্দি জ্বর নিয়ে আক্রান্ত ওই দুইব্যক্তি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। সন্দেহ হলে সেখানকার ডাক্তার তাদের রক্তের নমুনা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের রক্তে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মনসুর নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজমহর জানান, করোনা পজেটিভ সংবাদ জেনে ওই দুই ব্যক্তি বাড়ি থেকে পালিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে দুঃস্থ ও দরিদ্রদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ করোনা পরিস্থিতিতে সমাজের স্বচ্ছল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহবান জানান।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট মহামারীর ফলে এ বছর পবিত্র রমজান মাস ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হবে। আমি রমজান মাসে নিজ নিজ ঘরে ইবাদত বন্দেগী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘একই সাথে সমাজের স্বচ্ছল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আবদুল হামিদ বলেন, ‘রমজানের মহান শিক্ষা সমাজের সকল স্তরে ও সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। রমজানের পবিত্রতায় সকলের জীবন ভরে উঠুক। পরম করুণাময় যেন বিশ্ববাসীকে এ মহামারি থেকে রক্ষা করেন এই প্রার্থনা করি।’
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বছর ঘুরে বরকতময় মাহে রমজান আমাদের মাঝে সমাগত। অশেষ বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাস মহান আল¬াহর নৈকট্য এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা লাভের জন্য যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ মাসটি পালন করে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘সিয়াম ধনী-গরীব সকলের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। রমজানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলে অবদান রাখবেন – এ প্রত্যাশা করি।’

মানিকগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ১৩

সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ :রাজধানী ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা মানিকগঞ্জেও বেড়েই চলছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
২৪ এপ্রিল জেলার সদর উপজেলায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী এবং ঘিওর ও সাটুরিয়ার দুই যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আজ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ জন বলে জানান জেলার সিভিল সার্জন।
জেলার সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আকন্দ জানান, আক্রান্ত রোগীরা সকলেই নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের জন্য কোয়ারেন্টাইন বাধ্যমূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ৩ জনের দেহে করোনার জীবানু পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত জেলা থেকে ৪১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠনো হলে ১৩ জনের দেহে কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে।
জনাব আকন্দ আরো বলেন, মানিকগঞ্জ জেলায় মোট ১ হাজার ৯১৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। ১৪ দিন অতিক্রান্ত হবার পর ২৯৭ জন বাদে বাকিদের কোয়ারেন্টাইন মুক্ত করা হয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় ইউএনও আইরিনের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শিশুকন্যা মানহা। মা মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইরিন আক্তারকে ছাড়া থাকতে তার অনেক কষ্ট। তাই মায়ের অপেক্ষায় থাকে সারাক্ষণ। বাবা বিএম রুহুল আমিন রিমনও ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এই ছোট্ট মানহাকে বাসায় রেখেই ঘিওর উপজেলাজুড়ে করোনাযুদ্ধে দিনরাত লড়ছেন আইরিন আক্তার।
এরই মধ্যে এ সাহসী ইউএনওর মানবিক গুণাবলি নজর কেড়েছে সবার। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ঘিওর উপজেলাতেও ব্যাপক কাজ করা হচ্ছে আইরিন আক্তারের নেতৃত্বে।প্রতিনিয়তই উপজেলাব্যাপী মাইকিং ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় সব মসজিদে ইমামদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নিয়মগুলো আলোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি বাজারে লাগানো হয়েছে লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানার। মসজিদে মুসল্লি উপস্থিতি শিথিল করা হয়েছে। ইউএনও উপস্থিত হয়ে এবং ফোনে এ ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই সম্পর্কে আইরিন আক্তার বলেন, সংসদ সদস্য এমএম নাইমুর রহমান দুর্জয়, জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্দেশ এবং তদারকিতে আমরা সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার কাছে দায়িত্বটা অনেক বড়।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পাঁচদফা প্রস্তাব পেশ, সম্মিলিত বৈশ্বিক অংশীদারিত্বে বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অর্থবহ কৌশল উদ্ভাবনসহ তাঁর পেশকৃত পাঁচদফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে সম্মিলিত বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব এবং বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব সম্ভবত বিগত একশ’ বছরের মধ্যে সব থেকে বড় সংকটের মুখোমুখি, কাজেই আমাদের সম্মিলিতভাবেই এই সংকট মোকাবেলা করা প্রয়োজন। আমাদের প্রতিটি সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব এবং অংশীদারিত্বের জন্য একটি পদ্ধতির প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় কোভিট-১৯ বিষয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল আঞ্চলিক কনফারেন্সে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ‘দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাস এবং অর্থনীতিতে এ সংক্রান্ত প্রভাব মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সম্মেলনে ‘কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশের আঞ্চলিক স্থিতিস্থাপকতা বিনির্মাণ’ বিষয়ে ভাষণ দেন।
তিনি ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রায় করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট বোর্গে ব্রেন্ডে সম্মেলনে স্বাগত ভাষণ দেন।
শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমরা জানি না এই মহামারী কতদিন থাকবে। এটা ইতোমধ্যেই অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সমাজকে সঠিক পথে আনতে হবে, এই ক্ষত এবং ভয় থেকে জনগণকে বেরিয়ে আসায় সহযোগিতা করতে হবে এবং সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে।’
‘এই বিশ্ব ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যুদ্ধরত’, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন করোনাভাইরাস আমাদের অস্তিত্বের প্রতিই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বেও কোন একটি দেশকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয় এবং বিচ্ছিন্নকরণ নীতিও আর কাজে আসবে না।’
বিশ্ব এমন একটি জটিল অবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে যা মোকাবেলায় তিনি এই পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে আমাদের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন পড়বে।’
তাঁর প্রথম প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের মানবকল্যাণের জন্য নতুন চিন্তার প্রয়োজন পড়বে, অসমতা মোকাবেলা, গরিবদের সহযোগিতা এবং আমাদের অর্থনীতিকে কোভিড-১৯ পূববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, কেননা এই মহামারীর দরুন সমাজগুলোতে দারিদ্র এবং অসমতা দ্রুতলয়ে বেড়ে চলেছে।
‘গত এক দশকে আমরা আমাদের অর্ধেক দারিদ্রকে কমিয়ে এনেছি, যাদের অনেককেই আবার পেছনে ফিরে যেতে হতে পারে। কাজেই বিশ্বকে নতুনভাবেই মানব কল্যাণের জন্য চিন্তা করতে হবে, অসমতা মোকাবেলা, দরিদ্রদের সহযোগিতা এবং অর্থনীতিকে কোভিড-১৯ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, ’যোগ করেন তিনি।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জি-৭, জি-২০ এবং ওইসিডি থেকেও শক্তিশালী বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। জাতিসংঘের নেতৃত্বে বহুমুখী ব্যবস্থাটিকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি ২০২০ সালের গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্টে ‘সংক্রামক রোগ’ কে একটি মূল ঝুঁকি হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ক্লাউস সোয়াবের প্রশংসা করেন।
‘কাজেই এই ফোরাম এবং জাতিসংঘকে সরকার এবং বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যকে একত্রিত করতে নীতিমালা পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া উচিত
সুতরাং, ফোরাম এবং জাতিসংঘকে সরকার এবং বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যকে একত্রিত করতে নীতিমালা প্রণয়নে মনোযোগী হওয়া এবং নেতৃত্ব দেওয়া উচিত, তিনি এ জাতীয় যে কোনও উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান কৌশল ও কৌশলগত সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান কেননা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা, কর্ম ও উৎপাদন ব্যবস্থার রূপান্তর প্রত্যক্ষ করছে।
তিনি বলেন,‘আমরা ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ করেছি সরবরাহ চেইনের মধ্যে থাকা অনেক বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে না। কাজেই আমাদের কৌশল এবং ব্যবহারিক সমর্থন ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার যাতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো মানিয়ে নিতে পারে।’
তাঁর চতুর্থ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের বোঝা ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার জন্য একটি অর্থবহ বৈশ্বিক কৌশল অবলম্বন করা উচিত।
তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, ‘অভিবাসী শ্রমিকরা খুব কঠিন সময় পার করছেন, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাকরী হীনতা যেটা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। কাজেই আমাদের একটি অর্থবহ বৈশ্বিক কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন যাতে করে এই বোঝা এবং দায়িত্বকে ভাগ করে নেওয়া যায়।’
পঞ্চম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে আরো ভাল প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী সমাধান প্রণয়নের আহবান জানান।
এই মহামারীকালীন আমরা বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছি, যারমধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সংক্রমন খুঁজে বের করা। যাতে করে ভবিষ্যতের জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়,আমরা বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক সমাধানও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত সংযুক্ত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী মানবজাতির ইতিহাসে এক সংকটময় সময়ে এই ধরনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য ডব্লিউইএফ সভাপতি এবং ফোরামকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব একটি অদৃশ্য এবং অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে, যার নাম কোভিড -১৯। এতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জানুয়ারির প্রথম থেকেই সরকার ভাইরাসের বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রাণঘাতি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন যে, ৪১ দিনের ছুটি কার্যকর করার ফলে দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লকডাউন অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে গত ৪৭ দিনের মধ্যে ১২৭ জন মারা যাওয়ার সংখ্যা কম রয়েছে এবং আক্রান্ত লোকের সংখ্যা হচ্ছে ৪,১৮৬ জন।’
এই মহামারীর কারণে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরবরাহ ও চাহিদা উভয় ধরনের চাপ মোকাবেলা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আঘাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সরকার বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে আমাদের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের জন্য ১১.৬০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করেছি যা আমাদের জিডিপির ৩.৫% এর সমান।’
তিনি বলেন, এই প্যাকেজের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে উৎপাদন ও পরিষেবা খাত, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের বিভিন্ন সুবিধা।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়টিকে একটি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। ‘তবে দীর্ঘায়িত সঙ্কটের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার জন্য, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার কারণে বাংলাদেশের কৃষিখাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৃষির জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, তাঁর সরকার প্রায় ৫ কোটি লোককে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করতে চলেছে এবং ছয় লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য এখন পর্যন্ত দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে, তাই সরকার তাদেরকেও সামগ্রিক কৌশলের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নীতিগত কৌশলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বর্ধিত প্রতিযোগিতা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের প্রয়াস জোরদার করার মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার দিকে গুরুত ¡দেয়া হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলো হবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক প্যাকেজ প্রবর্তন, সামাজিক সুরক্ষা বলয় কর্মসূচি প্রসারিত এবং অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং পরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং মহামারী থেকে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলার জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সে সম্পর্কে বিশেষ ব্রিফিং দেন।
স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ রূপদান বিষয়ক ডব্লিউইএফ’র প্রধান আর্নড বার্নার্ট ফোরামের স্বাস্থ্যসেবা কমিউনিটির পক্ষ থেকে করোন ভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
পরে সঞ্চালক আলোচনার জন্য ফ্লোর উন্মুক্ত করে দেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অ্যাকশন গ্রুপের সদস্য অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের মতামত জানাতে অনুরোধ করেন।

কুড়িগ্রামে ভ্যান চালকের বাড়ি থেকে ১৫৫০ কেজি সরকারি চাল উদ্ধার

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের এক ভ্যানচালকের বাড়ি থেকে ৩১টি বস্তায় ১৫৫০ কেজি সরকারি চাউল উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভ্যানচালক আব্দুল জলিল পালিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরকারি চাল সন্দেহে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করে ৫০ কেজি ওজনের ৩১টি বস্তানাগেশ্বরী থানায় রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কফিল উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিতরবন্দের ওই ভ্যানচালকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চালগুলো উদ্ধার করা হয়। সন্দেহ করা হচ্ছে এগুলো সরকারি চাল। তবে কৌশল করে বস্তা পাল্টানো হয়েছে।
ভ্যানচালকের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মন্তাজ নামে এক ব্যবসায়ী ভ্যানচালকের বাড়িতে চালগুলো রাখেছেন। এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির প্রস্তুতি চলছে।

দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ১৬ জন, মারা গেছেন ৭ জন

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ১০৮ জন। বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪ হাজার ১৮৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৪১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
গতকালের চেয়ে আজ আক্রান্ত বেড়েছে ২৪ জন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিল ৩৯০ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় দেশে আরও ৭ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৭।
দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে নিজ বাসা থেকে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব তথ্য জানান। অধিদপ্তর থেকে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩ হাজার ৯২১টি। দেশের ২১টি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৪১৬টি। গতকালের চেয়ে নমুনা সংগ্রহের হার ২৮.৪৭ শতাংশ এবং নমুনা পরীক্ষার হার আগের দিনের চেয়ে দশমিক ১০.৩৪ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৯০টি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে শিগগিরই ৮ হাজার চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ দেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন খবরের কাগজে ও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, ভিআইপিদের জন্য আলাদা হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে- এ বিষয়টি সঠিক নয়। সরকার এরকম কোনো ধরনের ব্যবস্থা করেনি। সবার জন্যই একই হাসপাতাল ও একই চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বিবৃতি দেবেন না, যার কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এটি সরকারি নীতিবহির্ভূত।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘কোনো হাসপাতালই লকডাউন করা হয়নি এবং হবে না। অন্যান্য হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা বজায় আছে এবং থাকবে। আমাদের সকল হাসপাতালে যেসব ওষুধ সরকার দিয়ে থাকে, সেগুলো সরবরাহ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন করে আরও ৩টি জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। ফলে মোট আক্রান্ত জেলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮টিতে। নতুন আক্রান্ত ৩টি জেলা খুলনা বিভাগের। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের ৮৫ দশমিক ২৬ শতাংশ রাজধানী ঢাকা ও ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ৪৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ঢাকা নগরের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা মিলিয়ে এ সংক্রমণের হার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মোট আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬৮ শতাংশ ও নারী ৩২ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। যখন কোথাও সংক্রমণ ঘটলে এর উৎস জানা যায় না বা আক্রান্ত ব্যক্তি কিভাবে সংক্রমিত হলেন তা বোঝা যায় না, তখন সে অবস্থাকে সামাজিক সংক্রমণ বলে। বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের তৃতীয় ধাপে রয়েছে।’
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ জন, নারী ২ জন। মৃতরা সবাই ঢাকার ভিতরের। এদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ এর মধ্যে ১ জন।’
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১২৩ জনকে। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে আছেন ৯৯৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৮ জন। এপর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬২২ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩ হাজার ৪২৯ জন। এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৪৮ জন। এনিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭ হাজার ৮৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় ৩ হাজার ৯৭৭ জনকে। মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫০ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন। এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৮৪ হাজার ১৭ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৭ হাজার ৯৫৮ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬ হাজার ৩৭৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট কোয়ারেন্টিন ৮৪ হাজার ৩৩৩ জন।
বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

কুষ্টিয়ায় নকল পরিষ্কারক পণ্য তৈরির কারখানা সহ ৩৪ জনকে ১,৭০,৯০০ টাকার অর্থদণ্ড

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া ঃ কুষ্টিয়ায় নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ প্যাম্পাস এগ্রো এন্ড লজিস্টিকস লিঃ নামক নকল পরিষ্কারক পণ্য তৈরির কারখানা ও ৬ টি উপজেলার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক মোট ১৩ টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে ৩৪ জনকে ১,৭০,৯০০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের এক বার্তায় জানাগেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৮৮ ও ২৬৯ এবং সক্রামক রোগ (নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ২৪(১)(২), ২৫(১)(২) ধারায় ৩২ টি মামলায় ৬৮,৯০০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, নকল সার্জিক্যাল মাস্ক, নকল পিপিই, নকল হ্যান্ডওয়াশ, নকল টয়লেট ক্লিনার, নকল টাইলস ক্লিনার, নকল জীবাণুনাশকসহ কুষ্টিয়া জেলখানা মোড়ে অবস্থিত প্যাম্পাস এগ্রো এন্ড লজিস্টিকস লিঃ নামক নকল পরিষ্কারক পণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুইজন কারখানা মালিককে ০১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও উভয়কে ০৩ (তিন মাস) করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে৷
যমুনা গ্রুপের তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের উপাদান নকল করে এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হচ্ছিলো৷ এ সময় প্রায় ১ হাজার পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ০৬ হাজার পিস সার্জিক্যাল মাস্ক, ২১ পিস পিপিই জব্দ করা হয়। একই সাথে বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য সহ কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে৷ কারখানাটিতে কেমিস্ট বা ল্যাবের কার্যক্রম নেই। ভেজাল কেমিক্যাল ও অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্যের উপাদান নকল করে নিজেরাই এসব পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলো।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ৯২(১) ধারায় ২ জনকে ২,০০০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া দ্রব্যেমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মজুদ রোধ, বিদেশ ফেরত ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুর ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে প্রত্যেক ব্যাক্তির জন্য গ্রাম পুলিশ/আনসার নিয়োগ করা হয় এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে জন সাধারণের মাঝে করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে লিফলেট বিতরণ করা হয়। জন স্বার্থে মোবাইল কোর্টের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দেশে করোনায় আক্রান্ত ৩ হাজার ৭৭২, মৃতের সংখ্যা ১২০ জন

দেশে বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩ হাজার ৭৭২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৩৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গতকালের চেয়ে আজ আক্রান্ত কমেছে ৪৪ জন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিল ৪৩৪ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশে আরও ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আরো ৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯২ জন।
দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। বুলেটিন উপস্থাপনের শুরুতে অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ ও বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৩ হাজার ৫২টি। আগের দিনের কিছু নমুনা পরীক্ষা বাকি ছিল, ওইগুলোসহ মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৯০টি। নমুনা পরীক্ষার হার আগের দিনের চেয়ে দশমিক ১ শতাংশ বেশি।সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৭৪টি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, দেশের ৫৫ জেলায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ৭৩ শতাংশ। এর প্রায় অর্ধেকই ঢাকা মহানগরীর। ঢাকা বিভাগের ৪টি জেলা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে আছে ৪৯৯ জন। শুধু সিটি করপোরেশনেই আছে ৩৬৪ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। নারায়ণগঞ্জের পরেই রয়েছে গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার অবস্থান।
বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন এবং নারী ৩ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ভিতরে ৭ জন এবং ঢাকার বাইরের ৩ জন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের ১ জন করে রয়েছেন। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন।’
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৫০ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৯শ’ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৫ জন। এনিয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ৫৯৪ জন।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ২৪০ জনকে। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩২৭ জনকে। এনিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে মোট ৭ হাজার ৩৩৯ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫৬৭ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ১৭২ জন এবং এনিয়ে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৭৬ জন।
ডা. মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ ও বিতরণের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘সিএমএসডি থেকে নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে যথাযথ মান পরীক্ষা করে রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালে মাস্ক ও গ্লাভস সরবরাহ করা হচ্ছে। সিএমএসডির বাইরে অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বা অন্য কারও কাছ থেকে সংগ্রহ করে তা স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিতরণ করছে। ফলে এসব চিকিৎসা সামগ্রী ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কেনা কিংবা অনুদানে প্রাপ্ত সামগ্রীর ব্যাপারে চিকিৎসক ও নার্সরা জানেন না বলে সিএমএসডিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এগুলো নিম্নমানের মাস্ক ও গ্লাভস, যা সিএমএসডি থেকে সরবরাহ করা হয়নি।’
তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত সিএমএসডি পিপিই সংগ্রহ করেছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫০টি। বিতরণ করেছে ১১ লাখ ৬৮ হাজার ২৪৮টি। বর্তমানে মজুদ রয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯০২টি। সিএমএসডি প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার পিপিই গ্রহণ ও বিতরণ করে থাকে। বর্তমানে সিএমএসডি বিভিন্ন গ্রেডের এবং উন্নতমানের পিপিই পাচ্ছে এবং কোভিড-১৯ এর জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালে বিতরণ করছে। এছাড়া লক্ষাধিক এন-৯৫, কেএন-৯৫, এসইপি-২ ও পি-২ বা সমমানের মাস্ক মজুদ রয়েছে। এগুলো কোভিড হাসপাতাল ও পিসিআর ল্যাবরেটরিতে বিতরণ করা হচ্ছে।