আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য গামছা পেঁচিয়ে চালককে হত্যা, গ্রেফতার ২

news-image

নুরুল আজিজ চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ : অটোরিকশা ছিনতাই করার জন্য চালকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীর র্যা ব ১১-এর সদস্যরা।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীর র্যা ব ১১-এর সদর দপ্তরে অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর পাশা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১০ অক্টোবর গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও রূপগঞ্জের ব্রাক্ষণখালী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— প্রধান আসামি মো. আশিক মিয়া (১৯) রূপগঞ্জের দরিগুতিয়াবো এলাকার মনির হোসেনের ছেলে এবং অপর আসামি মো. রমজান মিয়া (৩৫) একই উপজেলার মালখান গ্রামের মৃত আক্তারুজ্জামানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল তানভীর পাশা জানান, গত ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল নতুন শহরের ৭নং সেক্টরের ২১৯ নং রোড়ে ১৪২/এ বাড়ির উত্তর পাশে ফাঁকা রাস্তায় অজ্ঞাত ব্যক্তির গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনার খবর পাওয়ার পর একই দিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মো. দুখাই মিয়া নামক এক ব্যক্তির গলাকাটা ও রক্তাক্ত লাশটি দেখে তার ছেলে হৃদয় মিয়া বলে শনাক্ত করেন। পরে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের বাবা মো. দুখাই মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে র্যা ব ১১-এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যা ব-১১ এর একটি চৌকস দল তাদের গ্রেফতার করে এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যাকারী আশিক জনৈক মাদক ব্যবসায়ী মো. সবুজ (৪৪) নিয়মিত মাদক ক্রয় ও সেবন করত। একপর্যায়ে মাদক সেবনসহ অন্যান্য কাজে আশিকের অর্থের প্রয়োজন হলে সে সবুজের কাছে টাকা ধার চায়। তখন সবুজ ইজিবাইকচালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই করার বুদ্ধি দেয় এবং বলে যে পেছন থেকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে অথবা গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করলে চালক কোনোভাবেই প্রতিহত করতে পারবে না।
এ ছাড়া সবুজ আশিককে রমজানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং বলে যে ছিনতাইকৃত ইজিবাইক রমজানের কাছে নিয়ে দিলে সে বিক্রি করে টাকার ব্যবস্থা করে দেবে। অতঃপর আশিক ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গত ৭ অক্টোবর রূপগঞ্জ থানার ডাঙ্গাবাজার থেকে ২০ টাকা দিয়ে একটি ছুরি ক্রয় করে। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী একই বাজার থেকে একই দিন আনুমানিক বিকাল ৪টায় হৃদয় মিয়ার ইজিবাইক ভাড়া করে। এর পর আশিক কৌশলে হৃদয় মিয়ার ইজিবাইক নিয়ে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় রূপগঞ্জ থানার পূর্বাচল এলাকায় যায় এবং পেছন থেকে আশিক তার সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে ইজিবাইক চালকের গলায় পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে।
এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আশিক হত্যার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে হৃদয় মিয়ার গলায় আঘাত করে এবং গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে। এর পর আশিক ভিকটিমের ইজিবাইক চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী মো. সবুজের নির্দেশনা অনুযায়ী বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার পাগুরা এলাকায় যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য রমজানের কাছে ইজিবাইকটি রেখে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকারী আশিক আরও জানায়, মো. সবুজ ও রমজান মিয়া আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।
তানভীর পাশা আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের প্ররোচনাকারী ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য সবুজ গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য র্যাব ১১-এর অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর