আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে কক্ষে ঝুলছে তালা

news-image

দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে কক্ষে তালা ঝুলছে। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকসহ কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে বর্তমানে সেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এক বেডে তিন রোগী আর অপরিচ্ছন্ন হাসপাতালে যেন রোগী ও স্বজনদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ ও শিশুদের টিকিট কাউন্টারে নেই কেউ। কর্তব্যরত অনেক চিকিৎসকও নেই। তাদের কক্ষে তালা ঝুলছে। সকাল সাড়ে ৮ থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার সরকারি বিধান থাকলেও এই হাসপাতালের প্রতিদিনের চিত্র এমনি বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অপেক্ষমান কয়েকজন রোগীর দেখা মিলে ওই সময়ে। এদের কেউ কেউ বলছেন ঠিকমতো চিকিৎসকসহ কর্মচারীদের দেখা মিলে না হাসপাতালে। টাকা ছাড়া কাজও হয় না বলে অভিযোগ করেন তারা।
চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী বলেন, বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হাসপাতালে এসে করাতে পারেননি। পরে বাইরে বাড়তি টাকা দিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

শিশুর ঠোঁট কাটা সমস্যা নিয়ে সদরের দত্তপাড়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন বলেন, দূর থেকে চিকিৎসা নিতে এসে টিকিট কেটে চিকিৎসকের কক্ষে এসে দেখেন তালা ঝুলছে। কী করবেন ভেবে না পেয়ে ফিরে যান তিনি।

এদিকে, ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রায় বেডে তিনজন করে শিশু রোগীকে দেখা গেছে। একাধিক স্বজনরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকার কথা সেখানে জীবন ঝুঁকি নিয়ে এক বেডে তিনজন করে শিশু রাখতে হচ্ছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরা সুস্থ হওয়ার চাইতে অসুস্থই বেশি হচ্ছে বলে জানান তারা। ওয়াশ রুমগুলোতে নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।

অন্যদিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ধরে দামি এসব যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানা যায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, নির্দিষ্ট সময়ে কেউ ডিউটিতে না থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া ৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল দিয়ে সেবা পরিচালনা করতে যেয়ে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০০৩ সালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয় হাসপাতালটি। এরপর ২০১৭ সালে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। বর্তমানে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও হাসপাতালটিকে জনবল বাড়েনি এখনো। ৫০ শয্যার জনবলেও রয়েছে সঙ্কট। যেখানে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে ২১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে আছে ১৮ জন, চক্ষু, ইএনটি ও কার্ডিওলোজি চিকিৎসক সঙ্কট আছে এখন। সিনিয়র স্টাফ নার্স ৫৯ জনের মধ্যে ৫১, স্টাফ নার্স ২৩ জনের মধ্যে চারজন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৮ জনের মধ্যে আছে আটজন।

সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফ্ফার জানান, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রতিদিন আউট ডোরে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী সেবা নেন। আর ইনডোরে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী ভর্তি থাকে। এত সব রোগী নিয়ে নার্স ও চিকিৎসকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। ৫০ শয্যা থেকে এখন ২৫০ শয্যায় হাসপাতাল উন্নিত হলেও ৫০ শয্যার লোকবল দিয়েই কার্যক্রম চলছে।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে শূন্য পদে নতুন লোক নিয়োগ না হওয়ায় সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন চালুসহ স্বাস্থ্য সেবার মান আরো বাড়ার ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন তিনি।