আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

‘অপকর্ম ঢাকতেই সিক্রেটস অ্যাক্টে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা’

news-image

নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই দেশে প্রথম অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রায় শত বছরের পুরোনো আইনটি রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরবৃত্তি রোধের জন্য করা হলেও এর অপপ্রয়োগ করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতে কিছু সরকারি কর্মকর্তা এ আইনে মামলা করে সাংবাদিকদের সরকার ও প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাচ্ছে বলে মনে করেন আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক ও সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল।

সচিবালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে প্রায় ছয় ঘন্টা আটকে রেখে হেনস্তা করার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপ সচিব ‘দৈনিক প্রথম আলো’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ ও পেনাল কোডের অন্য দুটি ধারায় মামলা করেন। এরপর থেকেই দেশ-বিদেশে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে প্রায় শত বছরের পরিত্যক্ত আইনটি।

আইন বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, এই আইনটি গুপ্তচরবৃত্তি আইন। ব্রিটিশ আমলের আইনে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করারই সুযোগ নেই। একটি মামলায় ফাঁসাতে হবে তাই এ মামলাটি করা হয়েছে।

এই সমস্যা নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মনজরুল আহসান বুলবুল বলেন, গুপ্তচরবৃত্তি আর সাংবাদিকদের মধ্যে পার্থক্য আছে। তবে এই আইনটি সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে অন্যায়ভাবে। একটি মৃত আইনকে বাঁচিয়ে সরকার আর সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হয়েছে।

একই বিষয়ে সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, এটি একটি পুরাতন আইন। যা আমাদের দেশে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা নানা উপায়ে দেশ ও মানুষের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রকাশ করে। দুর্নীতিবাজরা এটা মেনে নিতে পারেন না বলেই সাংবাদিকদের হয়রানি করেন।

অন্যদিকে ভারতে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’ প্রশাসন মামলা করলে, ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট আইনটি সাংবাদিক বা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না বলে রায় দেন। আইনটি পাকিস্তানের আইনেও আত্তীকরণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ১৯৮০ সালে সামগ্রিক আইন সংস্কারের সময় অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’টি বাতিল করে।