আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

‘অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীতীর রক্ষা করা যাবে না’

news-image

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের একটা হিড়িক পড়েছে। এটা বন্ধ করতে না পারলে … ডিসিদের বলেছি, নদীর তীর লোহা দিয়ে দেয়াল করে দিলেও তা রক্ষা করতে পারব না।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয়দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনশেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৪০৫টি নদী প্রবহমান রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষা মৌসুমে অধিক পানি আর শুষ্ক মৌসুমে পানি অনেক কমে যায়। খনন করে নদীর নাব্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাহিদ ফারুক বলেন, জেলা প্রশাসকদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে নদী রক্ষা ও নদীভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। নদী খননের একটা নীতিমালা প্রণয়ন হচ্ছে যেটা মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, বালু উত্তোলনের সময় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে করতে হবে। সন্ধ্যার পর কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের যেসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প আছে, সেগুলো চলমান রাখার জন্য বালু প্রয়োজন। তবে যত্রতত্র বালি উত্তোলন চলবে না। জেলা প্রশাসকদের বলেছি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীদের নিয়ে বালুমহাল চিহ্নিত করবেন।

তিনি আরো বলেন, বাঁধের ওপর ঘরবাড়ি থাকে। ঘরবাড়ি আর রান্নাবান্না করলে বাঁধে ইঁদুরের বাসা হয়। ফলে বাঁধ দুর্বল হয়ে যায়, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তখন বর্ষায় প্রবল স্রোতে বাঁধ ভেঙে যায়। তখন আপনারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করেছে কিন্তু কাজটা সঠিক হয়নি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে উঁচু স্থান নির্ধারণ করার কথা ডিসিদের বলা হয়েছে বলেও জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উপকূলীয় বাঁধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ষাটের দশকের বাঁধগুলো। এখন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ বাংলাদেশের টাকা দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এই কাজগুলো শেষ হলে আগামী সাত-আট বছর পরে একটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে। জলোচ্ছ্বাস থেকে এলাকাবাসী রক্ষা পাবেন।

এদিকে নদীর নাব্য রক্ষা, দূষণ ও দখল রোধে জেলা প্রশাসকদের আরো তৎপর হতে নির্দেশ দেয়ার কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নদীগুলোর নাব্য রক্ষা, দূষণ ও দখল রোধে জেলা প্রশাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ আমাদের নদী রক্ষার যে জেলা কমিটি, তার সভাপতি জেলা প্রশাসক। তারা ইতোমধ্যে অনেক ভূমিকা রাখছেন এবং এগুলো আরো জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি নৌদুর্ঘটনা বেড়েছে এমন নয়, কয়েকটি বড়-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। নৌদুর্ঘটনা কমে গেছে।

তিনি বলেন, নৌ সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে একটা অচলায়তন, অনিয়ম (হয়ে) আসছে। এটা এতবড় একটা সেক্টর, একবারে পরিবর্তন সম্ভব নয়।

খালিদ মাহমুদ বলেন, আমরা যে লঞ্চে যাতায়াত করি, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি – এটার নকশায় পরিবর্তন করা দরকার। শুধু কোভিড পরিস্থিতির কারণে নয়, বর্তমান এ আধুনিক যুগে এটি চলে না। এ জায়গাটায় আমরা নজর দিচ্ছি।

এ বিষয়ে কাজ চলছে বলেও জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। এ সেক্টরকে নিরাপদ করা তাদের লক্ষ্য বলে জানান।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে আমাদের যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে, এগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

দৌলতদিয়ায় ৭ ফেরিঘাটের ৪টিই বিকল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

পানির নিচে পন্টুন, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাঁদপুরের ডিসিকে বদলি, তিন জেলায় নতুন ডিসি

গাফফার চৌধুরী আর নেই

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কুমিল্লার মানবজমিন প্রতিনিধিসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ॥ প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল

চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ২

মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করতো তারা, গ্রেফতার ৬

বনের ভেতর সিসা তৈরির কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর খুঁড়িয়ে চলছে