আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা কারাগারে স্বাস্থ্যের সেই আবজাল আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ * কয়েক কোটি টাকা বিদেশে পাচার-দুদকের আইনজীবী

news-image

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) মো. আবজাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুই মামলায় আবজাল আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। মামলার সময় আবজালের মুখে দাড়ি না থাকলেও বর্তমানে তার মুখে দাড়ি রয়েছে। এ কারণে চিনতে সমস্য হলে আদালত আসামির ভোটার আইডি কার্ড দেখতে চান। ভোটার আইডি কার্ডের ছবি ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত একাধিক ছবি দেখে ও পর্যালোচনা করে আদালত আবজালকে শনাক্ত করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে অহেতুক হয়রানির জন্য মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামির বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার কথা এবং সেখানে মানি লন্ডারিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত ওই অ্যাকাউন্টগুলো অনেক পুরাতন। ওইসব অ্যাকাউন্টে দীর্ঘদিন আসামির আত্মীয়-স্বজন টাকা-পয়সা জমা এবং উত্তোলন করেছেন। ওইসব অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে টাকাও এসেছে। যাদের টাকা তারা তা উত্তোলন করে নিয়েছেন। আসামির সমুদয় সম্পদ তার আয়কর ফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে এসেছেন। তিনি জামিন পেলে পলাতক হবেন না, বিচার মানবেন এবং উপযুক্ত জামিনদার দেবেন।

অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর, রেজাউল করিম রেজা, রফিকুল ইসলাম জুয়েল আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানিতে তারা বলেন, আসামি সরকারি চাকরিজীবী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। তিনি কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। জামিন পেলে তিনি পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাকে কারাগারে পাঠানো হোক। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর ওই আদেশ দেন।

দুদক সূত্র জানায়, আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানম স্বাস্থ্য অধিদফতরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার সাবেক স্টেনোগ্রাফার। তিনি রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে ব্যবসা করেন। আবজাল সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকার মতো বেতন পান। অথচ চড়েন হ্যারিয়ার ব্র্যান্ডের গাড়িতে। ঢাকার উত্তরায় তার ও তার স্ত্রীর নামে বাড়ি আছে পাঁচটি। আরেকটি বাড়ি আছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আছে অন্তত ২৪টি প্লট ও ফ্ল্যাট। দেশে-বিদেশে বাড়ি-মার্কেটসহ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে তাদের।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ জুন অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আবজালের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এক মামলায় শুধু আবজাল ও অপর মামলায় স্ত্রী রুবিনা খানমের সঙ্গে আবজালকেও আসামি করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলা দুটি করেন।

আবজালের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আবজাল হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৩২ টাকা জমা করেন। অপরাধলব্ধ আয়ের এ টাকা পরে তিনি বিভিন্নভাবে উত্তোলন করে অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, মালিকানা আড়ালে হস্তান্তর এবং পাচার বা পাচারের প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। তার নিজ নামে স্থাবর ও অস্থাবর অংশে গোপনকৃত ২ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকাসহ জ্ঞাতআয়বহির্ভূত ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ টাকার সম্পদ ভোগ দখলে রেখেছেন।

আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, রুবিনা খানম নিজ নামে ট্রেড লাইসেন্স খুলে তার স্বামী আবজাল হোসেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রারম্ভিক মূলধন ছাড়াই কথিত ব্যবসা শুরু করেন। এর আড়ালে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট মালামাল সরবরাহের নামে অবৈধভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হন।

স্বামীর অবৈধ আয়কে বৈধ করার পরিকল্পনায় নিজ নামে ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং রূপা ফ্যাশনের নামে উল্লিখিত তফসিলি ব্যাংকগুলোয় ২৭টি বিভিন্ন প্রকার হিসাব চালু রাখেন। সেখানে ২৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৩ টাকা জমা এবং পরে ২৬৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ১৭৫ টাকা উত্তোলন করেন। রুবিনা নিজ নামের স্থাবর ও অস্থাবর অংশে গোপনকৃত ৫ কোটি ৯০ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকাসহ জ্ঞাতআয়বহির্ভূত বা অপরাধলব্ধ আয় ৩১ কোটি ৫১ লাখ ২৩ হাজার ৪৪ টাকার সম্পদ তার স্বামী আসামি আবজাল হোসেনের সহযোগিতায় ভোগদখলে রেখেছেন।

আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২), ২৭(১) ধারাসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০০৯ এর ৪(২) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় করা হয়। মামলার পর আবজাল দম্পতি বিদেশে পালিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে গত বছরের ২২ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবজাল ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত।

এ জাতীয় আরও খবর

শেখ রাসেলের জন্মদিনে ৫৮ কেজি ওজনের কেক কাটলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন ১৮ চেয়ারম্যান

‘প্রশাসনে বাংলাদেশি যেমন আছে, অসংখ্য পাকিস্তানিও আছে’

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আহ্বান

শিশু শ্রমে নির্মাণ হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময়

বিএনপি-জামায়াত বা তৃতীয় শক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পীরগঞ্জে জেলে পল্লিতে হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

উপকূলে ৩নং সতর্ক সংকেত, দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

‘শেখ রাসেল স্বর্ণ পদক’ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

কোন শিশুকে যেন রাসেলের ভাগ্যবরণ করতে না হয়: প্রধানমন্ত্রী

ফতুল্লায় মিশুক চালককে হত্যার দুই ঘাতক গ্রেপ্তার