আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

অর্ধকোটি টাকা ভাগাভাগি

news-image

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধকোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলায় ১৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ১৬০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, সরকারি হিসাবে যার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। গত ৩০ জুনের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নামমাত্র কাজ করেই সমুদয় গম উত্তোলনের পর বিক্রি করে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রকল্প এলাকায় জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্কুল, মাঠ ও কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্যে ১৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ১৬০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলার তারাগুনিয়া ফুটবল মাঠের উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০ টন গম। সরকারি হিসেবে যার বাজার মূল্য তিন লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে এলাকার ঐতিহ্যবাহী ওই ফুটবল মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি স্থানে মাত্র দুই ট্রাক মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, এ মাটি ভরাটে সর্বোচ্চ ছয়-আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রকল্পের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, পিআইও অফিস থেকে তাঁকে মোট এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, অতি বর্ষার কারণে সময়মতো মাটি সংগ্রহ করতে না পারায় প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মোজাম্মেলের বাড়ি থেকে জিল্লুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণের জন্য ৯ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই মাসের শেষের দিকে ওই রাস্তার দু-একটি স্থানে মাত্র কয়েক ঝুড়ি মাটি ফেলা হয়েছে। তবে এ প্রকল্পের সভাপতি বজলু মেম্বার জানান, এ কাজের জন্য পিআইও অফিস থেকে ৯ টন গমের মূল্য হিসেবে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। গমের দাম এত কম কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পিআইও অফিসে তো কিছু খরচা দিতে হয়।’

অন্যদিকে উপজেলার খাস মথুরাপুর কবরস্থানে মাটি ভরাট প্রকল্পে পুকুরচুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ১১ টন গম। স্থানীয়রা জানায়, কিছু শ্রমিক দিয়ে কবরস্থানে সামান্য কিছু মাটি ফেলা হয়। পরে এর আশপাশে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হয়, যাতে দেখে মনে হয় অনেক মাটি ফেলা হয়েছে।

মশাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাটসহ উন্নয়নের জন্য ১০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানেও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাকি প্রকল্পগুলোতেও একই রকম অনিয়ম হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান দাবি করেন, কাজ না করে প্রকল্পের অর্থ নয়ছয়ের কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘প্রকল্পের কাজে অনিয়মের ব্যাপারে আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখব।’

এ জাতীয় আরও খবর

বাউফলে শিশু ধর্ষণের শিকার, অভিযুক্ত কিশোর পলাতক

‘এমপি স্যার বলেছেন চিতলীয়ায় কোনো ভোট হবে না, সবাই সিলেক্টেড’ (ভিডিও)

পাটুরিয়ায় ফেরিডুবি: ৫ কাভার্ড ভ্যান ৩ মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে

পুরোনো ইট দিয়ে ১৮ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার!

৬৫ লাখ টাকার ইয়াবাসহ ২ ভাই আটক

২৪ ঘণ্টা ধরে পানির নিচে ৮০ লাখ টাকার গাড়ি

সিরাজগঞ্জে যুবদলের ১৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

পানিতে ডুবে গেছে অনেকের উপার্জনের পথও

‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে বিজিবি’

বিট পুলিশিং সেবার অনন্য উদ্যোগ

চলাচলকারী ফেরিগুলোর বেশিরভাগই নেই ফিটনেস

প্রকৌশলীর মোটরসাইকেল আটকানোয় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ট্রাফিক অফিস