আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

আইএমইডি’র প্রতিবেদন ছোট প্রকল্পে বড় অনিয়ম

মূল কাজ পুকুর পুনঃখননের খবর নেই, কেনা হয়েছে ২৯টি গাড়ি ও মোটরসাইকেল * অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ৩৬ শতাংশ * এটা অবশ্যই বিশাল অনিয়ম -আইএমইডি সচিব * আর্থিক ও পরিকল্পনা শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজ -ড.শামসুল আলম
মূল কাজ পুকুর পুনঃখনন, এর কোনো খবর নেই। আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যস্ত কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে গাড়ি ও মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে ২৯টি। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল সেটি পূরণ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাস্তবায়নের লক্ষ্য থেকে এখনও ৩৬ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে প্রকল্পটি। মূল কাজ বাস্তবায়ন না করে আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করাকে অনিয়ম হিসেবে দেখছে আইএমইডি। মাত্র ৩৯ কোটি টাকার ‘হাজামজা বা পতিত পুকুর পুনঃখননের মাধ্যমে সংগঠিত জনগোষ্ঠীর পাট পচানো পরবর্তী মাছ চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন’ প্রকল্পের এ চিত্র উঠে এসেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএমইডি’র সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, মূল কাজ বাদ রেখে অন্যান্য কাজ করায় প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে। এটা অবশ্যই বিশাল অনিয়ম। তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম হলে সেটি ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রকল্পটি যে নামে তৈরি হয়েছে সেই কাজই করা হয়নি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া।

সূত্র জানায়, পাটের আঁশ ও পানির গুণগত মান ঠিক রাখার লক্ষ্যে শ্রম ও ব্যয় সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য এ প্রকল্পটি হাতে নেয় পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)। এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, পতিত পুকুর পুনঃখনন করে সংগঠিত জনগোষ্ঠীর পাট পচানো এবং পরে সেখানে মাছ চাষ করা। অন্যান্য উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে : স্বল্প খরচে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎকৃষ্ট মানের পাটের আঁশ উৎপাদন করা। বাজার ব্যবস্থায় অবাধ অংশগ্রহণ এবং উৎপাদিত উৎকৃষ্ট মানের পাটের বাজারজাত সহজীকরণ। উন্নত মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি। সংগঠিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং সংগঠিত জনগোষ্ঠীর পুঁজি গঠন ও ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ উপকারভোগী পাট পচানোর জন্য পুকুর ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। সমবায়ভিত্তিক পাট পচানো ও পরে মাছ চাষে ব্যক্তিমালিকানার পুকুরগুলো কি শর্তে সমবায় সমিতির অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সমিতির সদস্যদের শেয়ার কি হারে হবে এসব বিষয় তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। কোনো পুকুরেই এখন পর্যন্ত একই সঙ্গে পাট পচানো এবং মাছ চাষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

সমীক্ষায় অংশ নেয়া ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ চাষী প্রচলিত সনাতন পদ্ধতিতে পাট পচিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রকল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় উদ্দেশ্যও পূরণ হয়নি। প্রকল্পের আওতায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮০টি শ্যালো মেশিন কেনার সংস্থান থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও কেনা হয়নি। তবে একটি জিপ গাড়ি ও ২৮টি মোটরসাইকেল কেনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পুকুর পুনঃখননের ক্ষেত্রে ডিপিপির কাজের সঙ্গে দরপত্রের কাজে অসাঞ্জস্যতা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লিখিত কাজ না করাটা অবশ্যই বড় ধরনের অনিয়ম। মূল কাজ না করে অন্যান্য কাজ করাটা আর্থিক ও পরিকল্পনা শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এতে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটে। তাছাড়া এ রকম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এমন প্রকল্প নেয়ার যুক্তিটাই বা কি? এদের কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে মূল কাজের পরিবর্তে গাড়ি, এসি সংগ্রহেই বেশি মনোযোগ থাকে। প্রকল্পে যদি মূল উদ্দেশ্যই পূরণ না হয় তাহলে বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া প্রকল্প দিয়ে ফাউন্ডেশন বাঁচিয়ে রাখার যুক্তিটা কি?

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকরী সংস্থা পিডিবিএফের তহবিল থেকে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির অনুকূলে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতির লক্ষ্য ছিল ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ। ফলে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এদিকে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতির লক্ষ্য ছিল ৮৫ শতাংশ। কিন্তু অর্র্জিত হয়েছে ৪৯ শতাংশ। এ ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে ৩৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ২৮১টি সমিতি গঠন করে পাঁচ হাজার ৯২২ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ২৮টি উপজেলায় প্রতিটিতে ১০টি করে মোট ২৮০টি পুকুরকেন্দ্রিক সমিতি গঠন করতে হবে। যেখানে প্রতিটি সমিতিতে মাছ চাষের জন্য ১০ জন ও অন্যান্য আয়বর্ধক কাজের জন্য ১০ জন সদস্য থাকবে। কিন্তু বাস্তবে পুকুরভিত্তিক কোনো সমিতি গঠন করা হয়নি। এমনকি মাছ চাষ ও অন্যান্য আয়বর্ধক কাজের জন্য সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ডিপিপিতে বর্ণিত আনুপাতিক হার অনুসরণ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এপ্রিল পর্যন্ত ৯৮টি হাজামজা বা পতিত পুকুর পুনঃখনন ও মেরামতের জন্য মোট ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে পতিত পুকুরে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অগভীর নলকূপ, যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইন সরবরাহের সংস্থান থাকলেও এ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতিই হয়নি। তবে প্রকল্পের আওতায় ঋণ গ্রহণকারী সদস্য চার হাজার ৫৭৪ জন। এ অঙ্গে অগ্রগতি হয়েছে ৮১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৫০ জন উপকারভোগীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। প্রকল্পের নির্ধারিত পাঁচটি ওয়ার্কশপের মধ্যে তিনটি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি।

এ জাতীয় আরও খবর

পল্লবী থানার ভেতর বিস্ফোরণ সন্ত্রাসীরা জঙ্গিদের ভাড়া করা?

জেকেজির দুই হাজার রিপোর্টে গরমিল, দ্রুতই অভিযোগপত্র

সাবেক সচিবের দখলে আস্ত চর

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র হস্তক্ষেপে আরিচায় লঞ্চে মটরসাইকেল পাড়াপাড় বন্ধ

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের তিন কর্মকর্তাকে কাল জিজ্ঞাসাবাদ করবেদুদক

সোনারগাঁয়ে নদী দখল করে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা

স্বাস্থ্যের ডিজি ও মন্ত্রীকে ঘিরে কৌতূহল!

স্বাস্থ্যমন্ত্রী-ডিজিকে ঘিরে বাইরে যখন ধোঁয়াশা, ভেতরে চলছে অস্থিরতা

হাতিয়ায় প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

বাগেরহাটে অবৈধভাবে বালু তোলায় লাখ টাকা জরিমানা

করোনায় মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে, সুস্থ ১,০৮,৭২৫

গা ঢাকা দিয়েছে স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়ারা। সাহেদ-সাবরিনা কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেটের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।