আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

আখাউড়া স্থলবন্দর: ঈদের দিনেও এসেছেন ১৫ জন

news-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আটকে পড়া ভারত ও বাংলাদেশের যাত্রীদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। আখাউড়া-আগরতলার সীমান্ত দিয়ে সর্বশেষ শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিকসহ ১৫ জন বাংলাদেশে ফিরেছেন। একই দিন এক ভারতীয় নিজ দেশে ফিরেছেন। গত ১৯ দিনে সর্বমোট ৫৮৭ জন বাংলাদেশে ও ১৭৮ জন ভারতে যাতায়াত করেছেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৬৭ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন পূর্ণ করা ৩১ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকজনের মধ্যে শুক্রবার ঈদের দিন বেলা ১১টার দিকে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান।

জানা গেছে, ভারত থেকে ফেরত বাংলাদেশের নাগরিকদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতটি আবাসিক হোটেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল, বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়। তাঁদের মধ্যে আখাউড়া উপজেলার হোটেল নাইন স্টার, হোটেল রজনীগন্ধা, জেলা শহরের হোটেল অবকাশ, হোটেল তাজ, হোটেল তিতাস, আশিক প্লাজা হোটেল ও গ্র্যান্ড মালেক হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

এসব হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা ও খাওয়ার খরচ কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকজনকে বহন করতে হয়। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে বিনা মূল্যে ফেরত আসা নাগরিকেরা থাকছেন। তবে খাওয়ার খরচ তাদের বহন করতে হয়।
আখাউড়া ইমিগ্রেশন ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত দিয়ে আসা ১৫ জন যাত্রীর মধ্যে ৬ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ২ জনকে হোটেল তিতাসে, ৪ জনকে গ্র্যান্ড মালেক হোটেল ও ৩ জনকে আশিক প্লাজা হোটেলে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

জেলা ও আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত শুরু হয়। চলতি মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা ৫৮৭ জনের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত ১৫ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছেন। বাকি ৫৭২ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৪৩ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪দিন পূর্ণ করায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৩১ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ আবদুল হামিদ বলেন, আটকে পড়া যাত্রীদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। ঈদের দিন শুক্রবার ১৫ জন বাংলাদেশে ফিরেছেন। আর একজন ভারতীয় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-এ আলম বলেন, জেলায় ২৬৭ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। শুক্রবার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আসা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এক বাংলাদেশির স্ত্রী।