আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন মেয়র লিটন, রাজশাহীতে খুশির বন্যা

news-image

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য হয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

খায়রুজ্জামান লিটন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের বড় সন্তান। লিটনকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করায় রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

লিটনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করায় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ বছর পর রাজশাহীর কোন নেতাকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ ফোরামে স্থান করে দেওয়ায় রাজশাহীর মানুষও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন দিয়েছেন। তারা খুশি। তারা অভিনন্দন জানিয়েছেন লিটনকেও।

প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা রাজশাহীতে বিপুল উন্নয়ন দিয়েছেন। এবার রাজশাহীর মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ করে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করলেন। রাজশাহীবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার এ এক অনন্য উপহার। আমি তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। রাজশাহীকে মূল্যায়ন করায় প্রধানমন্ত্রীকে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে, দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি এখন শুধু রাজশাহী অঞ্চলসহ দলের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবো।

এর আগে খায়রুজ্জামান লিটন দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। লিটন ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের জুলাইতে পুনরায় তিনি বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন।

খায়রুজ্জামান লিটন ১৯৫৯ সালের ১৪ আগস্ট রাজশাহী জেলার কাদিরগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শহীদ কামারুজ্জামান ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর নৃশংস জেলহত্যার শিকার হওয়ার আগে কামারুজ্জামান বঙ্গবন্ধু সরকারের শিল্প মন্ত্রী ছিলেন।

লিটন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর পড়াশোনার জন্য কোলকাতায় গমন করেন। ১৯৭৪ সালে কোলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৭৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি নেন। ১৯৮৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক হন। ১৯৮৫ সালে তিনি তিনি বার কাউন্সিলের সদস্য হন।

খায়রুজ্জামান লিটন ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পর্যায়ক্রমে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ এবং লিটনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানসহ নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ লিটনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।