আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ইউনিফর্মেই তাদের ঈদ আনন্দ

তাজ উদ্দিন, পেশায় ট্রাফিক কনস্টেবল। আসাদগেট সংলগ্ন আড়ং সিগন্যালে ঈদের দিন বিকালে যানজট নিরসনে ব্যস্ত। চোখে চোখ রেখে কথা বলার সুযোগ নেই। একটি সড়কের গাড়ি থামান, তো অপর সড়কের গাড়ি ছেড়ে দেন। এভাবেই দূরের গাড়ির ওপরে তার দুচোখ নিবিষ্ট।

তাজ উদ্দিন জানান, এবারের ঈদে ছুটি পাননি তিনি। সহকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার পরিবারও ঢাকায় থাকেন। সকালে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে দুপুরের পর তিনি ডিউটিতে এসেছেন।

ঈদে ছুটি পাওয়া না পাওয়া নিয়ে তাজ উদ্দিনের কোনও আফসোস নেই। পুলিশ একটি শৃঙ্খলিত বাহিনী, তাই এখানে দায়িত্ব পালনই মূল ব্রত। রাজধানীকে সচল রাখতে ইউনিফর্মেই যেন তাদের ঈদ আনন্দ।

তাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এক ঈদে ছুটি পাই, তো অন্য ঈদে পাই না। এতে কোনও সমস্যা নেই। পরিবারের সবারই অভ্যাস হয়ে গেছে।’

দেশে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা প্রায় ১২/১৩ হাজার। শুধুমাত্র ঢাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পুলিশ সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সমালোচনা হয়, তবে তাদের সীমাবদ্ধতার দিকগুলো অজানা অনেকের।

এই আধুনিক যুগেও হাত নাড়িয়ে বা হাতের ইশারায় ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা যেমন হাস্যকর, তেমনই কষ্টসাধ্যের বিষয়। একজন ট্রাফিক পুলিশ রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ে টানা ৮/৯ ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। যা দেখতে দেখতে এই মহানগরীর নাগরিকদের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক বলে মনে হয়। আসলে বিষয়টা এত স্বাভাবিক না। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকায়, রাস্তার মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। ম্যানুয়াল অনেক অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করেন তারা। কোথাও দড়ি, কোথাও লাঠি, কোথাও বাঁশ ব্যবহার এই মেগাসিটিকে এখনও সচল রেখেছেন। এবারের ঈদে গাড়ির পাশাপাশি পথচারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে।

দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বয়স বাড়ার পর শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, কিডনিরোগসহ বিভিন্ন রোগে ভোগেন।

তাজ উদ্দিনের মতো ঈদের দিন বিকালে আরেক ট্রাফিক কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস দায়িত্ব পালন করছিলেন চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন সড়কে। চন্দ্রিমা উদ্যানে ঈদের দিন সকাল থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। আব্দুল কুদ্দুস গাড়ির পাশাপাশি মানুষ নিয়ন্ত্রণেও তাই ব্যস্ত।

তিনি বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানের লেকের পাড়ের সড়কে অনেকে গাড়ি রেখে দেন। এতে সড়ক সরু হয়ে যায়। অনেকে আবার সড়কে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, তাদেরকেও সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’

ট্রাফিক পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ঈদের দিন অফিস করছেন, আবার মাঠেও কাজ করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন— চিকিৎসক, নার্স, গণমাধ্যমকর্মী, ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা।