আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে দুই উপজেলার ৫ হাজার মানুষ

news-image

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : এপারে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের সাইলী ওপারে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধুলন্ডীসহ নদী পাড়ের অন্তত ১০ গ্রাম। মাঝখানে খিরাই নদী। এই নদী পাড়ি দিয়েই অন্তত ১ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। নদীতে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও সুফল পায়নি। তাই যুগের পর যুগ ধরে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়ন ও সেচ্ছাশ্রমে তৈরি সুরু বাশের সাঁকো দিয়ে মানুষ নদী পারাপার হচ্ছে।
শিবালয় ও ঘিওর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাহিলীর আশপাশের অন্তত ১০ টি গ্রাম ঘিওর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও, এসব গ্রাম তাদের উপজেলা সদর থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই এসব গ্রামের মানুষ নদীর ঠিক ওপারে অবস্থিত শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নে বাজার-সওদা থেকে শুরু করে শিক্ষা-চিকিৎসাসেবার জন্য যেতে হয় এমনকি মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হলেও শিবালয়ের উপজেলার সাহিলী হয়েই যেতে হয় । এ এলাকার মানুষের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নে। ।
স্থানীয়রা বলেন, দুই উপজেলার সীমান্ত আলাদা করে বয়ে গেছে খিরাই নদী। এই দুই উপজেলার ধুলন্ডী, সাহিলী, চৌবাড়িয়া, কালাচাঁদপুর, ভালকুটিয়া, বাষ্টিয়া,আঙ্গুর পাড়া,বামনা,শোদঘাটা,কায়েমতারাসহ ১০ গ্রামের মানুষকে প্রতিদিনই ব্যবসা-চিকিৎসা-শিক্ষাসহ নানা কাজে ও আত্মীয়তার সূত্রে শিবালয় উপজেলায় আসতে হয়। এ অবস্থায় একটি সেতুর অভাবে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আশেপাশের বেশকয়েকটি গ্রামের মানুষের নিত্য প্রয়োজনে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। যুগ যুগ ধরে এসব মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম বাঁশের সাঁকো। মহাদেবপুর ডিগ্রি কলেজ, গার্লস স্কুল, গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন দিশারী, ধুলন্ডী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে পারাপার হতে হয় সাঁকো দিয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধুলন্ডী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খিরাই নদী। ধুলন্ডী বাজার থেকে কর্দমাক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়ে উঠতে হয় সরু বাঁশের সাঁকোতে। ভরা নদীর ওপর প্রায় ৩শ ফিট দীর্ঘ এই বাঁশের সাঁকো দেখলে যে কারো মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। অথচ ৩শ ফুট দৈঘ্য একটি সুরু সেতু দিয়ে ঘিওর উপজেলার মানুষ খিরাই নদী পাড়ি দিয়ে শিবালয় উপজেলায় আসছে। চলাচলকারী লোকজনের মধ্যে স্কুল-কলেজের অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। কৃষিপণ্য বিক্রয় করা নিয়ে পরতে হয় ঝামেলায়। ডিজিটাল যুগেও এসব গ্রামবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে জনপ্রতিনিধিরা নিরব বলে জানা গেছে।
ধূলন্ডী গ্রামের অর্পিত রায় মহাদেবপুর গালূস স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে জানায়, স্কুল কিংবা প্রাইভেট পড়তে তার প্রতিনিয়ত এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এবং বান্ধীদের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে আসতে পারি না এই সাঁকোর কারণে। এটা কষ্ট ও লজ্জার বিষয়।
মহাদেবপুর ইউনিয়নের সাহিলী গ্রামের মো: আলমগীর হোসেন (৪০) বলেন, সাঁকো দিয়ে শিশু-বয়স্কদের পারাপারে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কোনো যানবাহন গ্রামে যেতে পারে না। এই সাঁকো থেকে পড়ে প্রায়ই দূর্ঘটনায় আহত হয় । এছাড়াও পণ্য পরিবহনে বাড়তি ঝামেলা ও দ্বিগুণ অর্থ অপচয় হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মিজান বলেন, সুস্থ মানুষ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছেন। অসুস্থদের অবস্থা বলার মতো নয়। বেশি সমস্যা হয় প্রসূতিদের নিয়ে। কিন্তু সাঁকোটিও নিয়মিত সংস্কার করতে না পারায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে, ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
ধুলন্ডী গ্রামের নিরোদ হালদার (৭২) বলেন, ছবি তুইলা কি করবেন বাজান। জন্মের পর থেকে দেইখা আইতাছি এই বাঁশের পুল। কত কষ্ট হয় আমাগো পারাপারে। পুলের উপর উঠলে পাও কাঁপে। কেউ শোনে না আমাগো কথা। তিনি আরো জানান, শুকনো মৌসুমেও নদীর নিচু জায়গায় বছরের পাঁচ-ছয় মাস পানি জমে থাকে। যুগের পর যুগ তাঁদের গ্রামের লোকজনের চলাচলের জন্য সেখানে এলাকাবাসীর অর্থায়নে একটি সরু বাঁশের সাকো।
বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল আওয়াল বলেন, এপাড়ে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন আর অপর পাশে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০ টি গ্রামের মানুষ এই সাকো দিয়ে পারাপার হয়ে থাকে। হাট বাজার, জেলা সদর কিংবা ৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থরিা এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। এ ব্যাপারে উপজেলা কর্তৃপক্ষকে অনেক বার অবগত করেছি।
বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি তাপস কুমার বসু তুফান বলেন, বর্ষাকালে চার মাস তাঁদের সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। আর পানি একেবারে শুকিয়ে গেলে তখন হেঁটে চলাচল করা যায়। কিন্তু নদীর উচু ঢাল মারিয়ে ওপরে উঠতে হয়। বর্ষার শুরুতেই তাঁরা নিজেরা চাঁদা তুলে ৩শ ফুট দীর্ঘ সরু বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে আসছিলেন। এখানে একটি সেতু নির্মানে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবী জানাচ্ছি।
শিবালয় উপজেলা মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান মাহমুদুল আমিন ডিউক বলেন, খিরাই নদীতে ‘একটি সেতুর জন্য ভুক্তভোগী মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে রয়েছে । এ অবস্থায় দুটি উপজেলার অন্তত ৫ হাজার মানুষ সেতুর অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এখানে একটি সেতুটি খুব প্রয়োজন। এখানে একটি সেতুর জন্য উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরে একটি প্রস্তাবনা রয়েছে।

শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানু বলেন, আজ পর্যন্ত এ নদীতে সেতুর বিষয়ে কোন জনপ্রতিনিধি আমাকে অবগত করেননি। যা হোক, আমি জায়গাটি পরিদর্শন করবো। পরিদর্শন শেষে যদি সেতু নির্মাণ করার পরিবেশ থাকে, তাহলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, একটি সেতুর অভাবে বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ কষ্ট করছেন। তাঁদের দুর্ভোগ লাঘবে ওই গ্রামে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় এমপি মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা প্রকৌশলী শাহীনুজ্জামান জানান, আমি এ উপজেলায় সবেমাত্র কিছুদিন যাবত যোগদান করেছি। তবে এরকম একটি ব্রিজের বিষয়ে আমার অফিসে একটি প্রস্তাবনা রয়েছে।

ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মো: সাজ্জাকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করবো।

এ জাতীয় আরও খবর

শেখ রাসেলের জন্মদিনে ৫৮ কেজি ওজনের কেক কাটলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন ১৮ চেয়ারম্যান

‘প্রশাসনে বাংলাদেশি যেমন আছে, অসংখ্য পাকিস্তানিও আছে’

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আহ্বান

শিশু শ্রমে নির্মাণ হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময়

বিএনপি-জামায়াত বা তৃতীয় শক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পীরগঞ্জে জেলে পল্লিতে হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

উপকূলে ৩নং সতর্ক সংকেত, দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

‘শেখ রাসেল স্বর্ণ পদক’ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

কোন শিশুকে যেন রাসেলের ভাগ্যবরণ করতে না হয়: প্রধানমন্ত্রী

ফতুল্লায় মিশুক চালককে হত্যার দুই ঘাতক গ্রেপ্তার