আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

একদিকে যমুনার ভাঙন, অদূরেই অবৈধ বালু উত্তোলন

যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে শুরু হয়েছে ভাঙন। ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন নদীতীরের মানুষগুলো।
অপরদিকে, অদূরেই প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসবে নেমেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে এনায়েতপুরের সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বালু উত্তোলন চলছে। এদিকে নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে একই এলাকার এনায়েতপুর স্পার বাঁধ, খাজা ইউনুছ আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ জনপদ।

অপরদিকে, এনায়েতপুরের বাহ্মণগ্রামের দক্ষিণে খুকনী, জালালপুর ও কৈজুরী ইউয়িনের প্রায় ছয় কিলোমিটার নদীর তীরজুড়ে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনায়েতপুরের ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রায় ২৫/৩০ বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ চক্রটি প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রি করে। এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ, থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চুর নেতৃত্বে ১৪ জনের একটি চক্র গত এক সপ্তাহ ধরে সুবিশাল কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু তুলছে। ড্রেজারগুলো দিয়ে মাঝ যমুনায় সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের গাবেরপাড়া, উড়াপাড়া, মৌহালী, ইজারাপাড়াসহ আশাপাশের এলাকা থেকে দিনভর তোলা হচ্ছে বালু।

কথা হয় গাবের পাড়া গ্রামের কৃষক মুল্লুক চান, করিম হোসেন, রাজ্জাক , ধুলিয়াবাড়ির আশরাফ হোসেন, মৌহালীর আকবার মোল্লা, সন্তু মিয়া, আছির উদ্দিনসহ অনেকের সঙ্গে। তারা বলেন, আমাদের এলাকায় নদী থেকে সিরাজ চেয়ারম্যান ও তার লোকেরা জোড় করে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছেন। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছি না।

ভাঙন কবলিত ব্রাহ্মণগ্রামের আজাহার আলী, আবুল হোসেন, আরকান্দির মুজাম হোসেন, আবু জাফরসহ অনেকেই বলেন, অব্যাহত নদী ভাঙনে আমরা এখন নিঃস্ব প্রায়। বাকি ঘর-বাড়ি যা আছে, তাও রক্ষা পাচ্ছে না। তার ওপর যমুনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে কাটা হচ্ছে বালু। এটি বন্ধ না হলে এ এলাকার মানুষের আর রক্ষা থাকবে না।
তবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা ইয়াসমিন জানান, চৌহালীতে বৈধ কোনো বালু মহাল নেই। এনায়েতপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি জেনেছি। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, জেলার কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। আমরা এনায়েতপুরের বালুদস্যুদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।