আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

এক এমপির বাড়ির সামনে আরেকজনের সিসি ক্যামেরা

news-image

বরগুনার পাথরঘাটায় কলেজ রোড এলাকায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি (সংসদ-সদস্য) নাদিরা সুলতানা সবুরের বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা বসানোর অভিযোগ উঠেছে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে এমপি নিজেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি গোলাম সবুরের স্ত্রী নাদিরার অভিযোগ, ‘বাড়িতে দলের কারা আসছেন-যাচ্ছেন তা নজরদারি করার জন্যই ওই সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন এমপি রিমন। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রশ্নেও শঙ্কার মধ্যে পড়েছে আমার কর্মী-সমর্থকরা।’

এ বিষয়ে জানতে এমপি রিমনের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু রিং হলেও তিনি তা ধরেননি। পরে খুদে বার্তা দিয়েও তার কোনো সাড়া মেলেনি।

এর আগে সড়কে এমপি রিমনের গাড়িকে সাইড না দেওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর পাথরঘাটায় এক অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলামকে মারধর করেছিলেন এমপি। পরে সংবাদ সম্মেলনে নজরুল অভিযোগ করেন, ‘এমপি নাদিরা সুলতানার সমর্থক হওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমাকে শত শত মানুষের সামনে মারধর করেন এমপি রিমন।’ নাদিরার সমর্থকরা ধারণা করছেন, ওই সিসি ক্যামেরায় এমপির বাসায় নজরুলের যাওয়া আসা দেখেই হয়তো ওই কাণ্ড ঘটান তিনি। যদিও পরে বরগুনায় সংবাদ সম্মেলন করে মারধরের কথা অস্বীকার করেন বরগুনা-২ আসনের এমপি। তিনি দাবি করেন পুরো বিষয়টি ষড়যন্ত্র।

সড়ক দুর্ঘটনায় এমপি গোলাম সবুর টুলুর মৃত্যুর পর বরগুনা-২ আসনের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তার মেয়ে ফারজানা সবুর রুমকি। যদিও তখন সবুরের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন রিমন। এরপর আরও দুবার দলীয় মনোনয়নে এমপি হন তিনি। মাঝে পরপর দুটি জাতীয় নির্বাচনে এমপি রিমনের বিরুদ্ধে দলের কাছে মনোনয়ন চান ফারজানা সবুর। মেয়ে মনোনয়ন না পেলেও সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর গোলাম সবুরের স্ত্রী নাদিরা সুলতানাকে সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এদিকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা ফারজানা সবুর রুমকি পান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বাবার জনপ্রিয়তার সূত্রে বরগুনা-২ আসনে বেশ শক্ত একটি অবস্থানও তৈরি হয়েছে তার।

সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়ে ফারজানা সবুর বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম পৌরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশ বা পৌরসভার পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে এ সিসি ক্যামেরা। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে এমপি রিমন সাহেব বসিয়েছেন। তাও একেবারে আমাদের বাড়ির দিকে তাক করে। এটি নিশ্চই কোনো ভালো উদ্দেশ্যে লাগানো হয়নি। উনি চাইছেন আমাদের ওপর নজরদারি করতে। যা অশোভন।’

সংসদ-সদস্য নাদিরা সুলতানা বলেন, ‘এর মাধ্যমে উনি (এমপি রিমন) আসলে দেখতে চাইছেন যে এখানে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। এরপর হয়তো আমার কর্মী-সমর্থকদের তার রোষানলের শিকার হতে হবে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শুধু আমার কর্মী-সমর্থকরাই নন, আত্মীয়স্বজন যারা নানা প্রয়োজনে আমার বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন তারাও চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।’

পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাবির হোসেন বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের সুরক্ষা আর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। রাজনীতিতে দলীয় মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সবারই রাজনীতি করারও অধিকার রয়েছে। কিন্তু একজন এমপির বাসার সামনে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে এভাবে নজরদারি করার মানে কি?’

এমপি নাদিরার একাধিক কর্মী-সমর্থক যুগান্তরকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম যে, আমরা যারা এমপি নাদিরার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং তার হয়ে দলের কাজ করি তাদের ওপর এমপি রিমন এবং তার ঘনিষ্ঠরা বেশ খানিকটা রুষ্ট। এখন পুরো বিষয়টি পরিষ্কার।’

অন্য কোনো বিভাগ বা দপ্তর এ সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এমপি নাদিরা সুলতানার বাড়ির সামনে তো দূরের কথা পৌর শহরের কোনো সড়কেই আমরা কোনো সিসি ক্যামেরা লাগাইনি।’ পুলিশের পক্ষ থেকেও পৌর শহরে কোনো সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়নি বলে জানানো হয়েছে। বামনা-পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদ সরকার বলেন, ‘সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মহোদয়ের অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তার বাড়ির সামনে লাগানো সিসি ক্যামেরাটি দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা।’

এ জাতীয় আরও খবর