আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

এক ছাত্রলীগ নেতার নির্দেশে আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হাসপাতালে!

news-image

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নির্দেশে সদর সভাপতিকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনকে গতিশীল করতে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি গঠন শুরু করেছে উপজেলা সভাপতি-সম্পাদক। সম্প্রতি দুটি ইউনিয়ন ও একটি কলেজের কমিটিও ঘোষণা করেছেন তারা। এতে ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা, প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিলেও সাংগঠনিক এ কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন।

তাকে না বলে কেন এসব ইউনিটে কমিটি গঠন করা হয়েছে- সেই অজুহাতে বুধবার রাত ১১টার দিকে তার অনুগত ক্যাডার পাঠিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী তামজিদ পাশার ওপর বর্বর হামলা করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপহরণ চেষ্টারত হামলাকারীদের হাত থেকে আহত ছাত্রলীগ নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।

এ সময় তামজিদ তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মায়ের দোয়া শুঁটকি বিতানে বেচাকেনারত ছিলেন। হামলাকারীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও মোবাইলসহ মূল্যবান পণ্যসামগ্রীও নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন আহত ছাত্রলীগ সভাপতি তানজিম। এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির প্রতি ঘৃণা জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

আহত ছাত্রলীগ সভাপতি তামজিদ বলেন, করোনাকালীন থেকে নানা কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটে নেতাকর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছেন। অনেক ইউনিয়নে নতুন করে কমিটিও গঠন করা হয়নি। এ অবস্থায় সংগঠনকে গতিশীল করতে জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ঝিমিয়ে পড়া বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। কিন্তু সংগঠনের এ গতিশীলতা মেনে নিতে পারেননি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন।

তিনি বলেন, কমিটি কেন গঠন করেছি তা নিয়ে একাধিকবার ফোন করে বিভিন্নভাবে আমাকে গালমন্দ করেছেন। করেছেন বকাঝকাও। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমার সাংগঠনিক অভিভাবক হওয়ায় এ বকাঝকাকে তেমন গুরুতরভাবে নেইনি। কিন্তু বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হামলা চালায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সাদ্দামের অনুসারী সাদমান, আরিফ, মুন্না ও শিহাবসহ বেশ কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেয়। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ঘটা হামলার ঘটনায় আমাকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে হামলার সত্যতা মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা সাদ্দাম ভাইকে না জানিয়ে কোন সাহসে কমিটি দিয়েছিস বল? তোকে আজ মেরেই ফেলব… এসব কথা বলতে বলতে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় তারা বলে- এখানে মেরে ফেললে ধরা পড়ে যাব, চল আস্তানায় নিয়ে যাই বলে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

হামলায় তামজিদের মুখে, হাতে, শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। তাকে না জানিয়ে কমিটি গঠন করায় ফোন করে বকাঝকা করার সত্যতা স্বীকার করলেও হামলার বিষয়টি অবগত নয় জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন বলেন, হামলায় যারা অংশ নিয়েছে তারা আমার সাথে থাকে সেটা ঠিক, তবে আমি তামজিদকে মারতে তাদের পাঠাইনি। হামলা করালে অপরিচিত কাউকে দিয়ে করাতাম, এটা তৃতীয় কোনো পক্ষের কারসাজি। আমি ঢাকায় রয়েছি, কক্সবাজার ফিরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন, আমি কক্সবাজারের বাইরে রয়েছি, তবে হামলার বিষয়টি আমি অবগত। ঘটনাটি চরম লজ্জার ও দুঃখজনক। কী কারণে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রলীগে কোনো অপরাধীর স্থান নেই। ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে একমুহূর্তও ভাবা হবে না।

জেলা সভাপতিকে না জানিয়ে কোনো উপজেলা সভাপতি-সম্পাদক ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন দিলে হামলা করানোর ঘটনা কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, এটি কখনো কাম্য নয়। কক্সবাজারের ঘটনাটির সত্য-মিথ্যার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দে বলেন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর হামলার বিষয়ে একটি এজাহার পেয়েছি। ছাত্রলীগের আরেকটি পক্ষও একটি এজাহার দিয়েছে। ঘটনা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।