আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

এনায়েতপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, আটক ১৩, জরিমানা

news-image

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের যমুনা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো:মঈন উদ্দিন ও মো: মাসুদুর রহমান যৌথ ভাবে এনায়েতপুর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি বাল্কহেডসহ ১৩ জনকে আটক করে। এরপর তাদের বেতিল ভূমি অফিসে এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ৮ জনকে দোষী সাব্যাস্ত করে বাকিদের ছেড়ে দেয়।
এরমধ্যে দোষী ৮ জনকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট নগদ ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়। এ অভিযানে আরো অংশ নেয় এনায়েতপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলামেন নের্তৃত্বে এক দল পুলিশ ও আনসার সদস্য। এ অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের মূল হোতারা পালিয়ে যায়। ফলে পুলিশ তাদের আটক করতে পারেনি।

উল্লেখ্য,এনায়েতপুরের ১৪/১৫জনের একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে গত ১ সপ্তাহ ধরে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে এনায়েতপুর ঘাটের পাশে স্তুপ করে রেখে ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। ফলে শাহজাদপুর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম,আরকান্দি,জালালপুর,পাকুরতলা ও পাচিল গ্রামের ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়।

এরমধ্যে এ সব গ্রামের ৫০টি বাড়িঘর ও ১০০ বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এ সংক্রান্ত দৈনিক আমার সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে প্রশাসনের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। এরই অংশ হিসাবে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহাম্মদের নির্দেশে সিরাজগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো:মঈন উদ্দিন ও মো: মাসুদুর রহমান যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। ফলে এ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।

এলাকাবাসির জানায়, ওই প্রভাবশালী চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এনায়েতপুর থানার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ। তবে তিনি এলাকাবাসির এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালু উত্তোলনের সাথে আমি জড়িত না। আমি এখন ব্যস্ত আছি। পরে আপনার সাথে এ বিষয়ে কথা হবে।

এলাকাবাসী আরো জানান, গত সপ্তাহ ধরে এ বালু উত্তোলনের ফলে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পশ্চিম পাড়ে স্রোতের আঘাত হানায় এনায়েতপুর স্পার বাধ, খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খাজা ইউনুছ আলী বিশ্ববিদ্যালয়, তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে শাহজাদপুর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম,আরকান্দি,জালালপুর,পাকুরতলা ও পাচিল গ্রামের ৬ কিলোমিটার এলাকা যমুনা নদীর ভাঙ্গণ শুরু হয়।

র‌্যাবের অভিযান ও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ড্রেজার মালিকদের অর্থদণ্ড দেয়া হলেও থামেনি বালুদস্যুদের দৌরাত্ব। তারা আরো জানান, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ও স্থল ইউনিয়নের প্রভাবশালী ব্যক্তি সহ এনায়েতপুরের ১৪/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত ২৫/৩০ বছর ধরে অবৈধভাবে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। এলাকাবাসি আরো জানায়, এ চক্রটি বছরে অন্তত ৬০/৭০ কোটি টাকার বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে থাকে। ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল অংকের রাজস্ব হারায়।

অথচ চৌহালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফসানা ইয়াসমিন জানান, যমুনা নদীর চৌহালি অংশের কোথাও অনুমোদিক বালু মহাল নেই। তার পরেও বালু উত্তোলন ও বিক্রি থামেনি।

তারা জানায়, গত ১ সপ্তাহ হল এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চুর নেতৃত্বে ১৪/১৫ জনের চক্রটি আবারও যমুনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি শুরু করে।

সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের গাবেরপাড়া, উড়াপাড়া, মৌহালী, ইজারাপাড়া, সহ আশপাশ এলাকার যমুনা নদী থেকে এ বালু উত্তোলন করে এনায়েতপুর ঘাটের উত্তরপাশে স্তুপ করে। পরে এখান থেকে ট্রাকযোগে এনায়েতপুর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে।

এ বিষয়ে গাবেরপাড়ার কৃষক মুল্লুক চাঁন, করিম হোসেন, রাজ্জাক ঘোষ, ধুলিয়াবাড়ির কৃষক আশরাফ হোসেন, মৌহালীর আকবার মোল্লা, সন্তু মিয়া, আছির উদ্দিন জানান,যে সব স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তা আমাদের ব্যক্তি মালিকাধিন জায়গা। সুষ্কমৌসুমে আমরা এসব স্থানে ফসল আবাদ করি। সিরাজ চেয়ারম্যান ও তার লোকজন জোড় করে ড্রেজার দিয়ে এখান থেকে বালু উত্তোলন করে। বারবার বন্ধ করতে বলা হলেও কোন কাজ হয়নি। তাদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ আবাও অভিযান করা হল দেখা যাক কয়দিন এ বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণগ্রামের আজাহার আলী, আবুল হোসেন আরকান্দির মুজাম আলী, আবু জাফর জানান, অব্যহত যমুনা নদী ভাঙ্গণে আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। অভিযানের ফলে বালু উত্তোলন বন্ধ হলে আমরা ভাঙ্গণ থেকে রক্ষ পাব। কিন্তু আবারও যদি বালু উত্তোলন শুরু হয় তাহলে যে কয়টি বাড়িঘর একনও আছে তা আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ভাঙ্গণে তান্ডবে সব বিলিন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা ইয়াসমিন বলেন, প্রভাবশালীরা আর যাতে বালু উত্তোলন করতে না পাওে সেদিকে নজর রাখতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনায়েতপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি।

এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, আবারও যদি কেউ বালু উত্তোলনের চেষ্টা কওে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, যেখানেই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হবে সেখানেই অভিযান চালানো হবে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।