আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

এসআই ফখরুল কাণ্ডে অতিষ্ঠ এক ‘মা’!

সিলেটের বিশ্বনাথে এসআই ফখরুল ইসলামের ঘুসকাণ্ডে অতিষ্ঠ এক ভুক্তভোগী ‘মা’। তিনি উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের প্রবাসী আমির উদ্দিনের স্ত্রী সেফুল বেগম।
ওই এসআইকে দুইবারে ১০ হাজার টাকা ঘুস দিয়েও মেয়েকে উদ্ধার করাতে পারেননি। এমনকি থানায় উপস্থিত থাকা মেয়ের সঙ্গে দেখাও করতে দেননি ওই এসআই। এছাড়াও মেয়েকে উদ্ধার করতে ৫০ হাজার টাকা ঘুস দাবি করলে ওসির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে ওই মহিলাকে জোর করে থানা থেকে বের করে দেন ফখরুল ইসলাম।

এমন বিস্তর অভিযোগ এনে শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সেফুল বেগম সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৮ নভেম্বর তার কাবিন রেজিস্ট্রি হওয়া মেয়েকে ফুঁসলিয়ে পালিয়ে নিয়ে যায় শাহজাহান মিয়া নামের এক ছেলে। সে রামপাশা উত্তরপাড়া গ্রামের মুসলিম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় মেয়ের মা সেফুল বেগম থানার এসআই ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন। এমনকি দারোগা নিজে কম্পিউটারে গিয়ে অভিযোগটি লিখিয়ে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে গত ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় রিপন নামের এক সিএনজিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। রিপনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলে সেফুল বেগমের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেন এসআই ফখরুল। পরদিন ১ ডিসেম্বর সিএনজিচালক রিপনকে ছেড়ে দিয়ে সেফুল বেগমকে বলেন তোমার মেয়েকে নিয়ে আসার জন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সিএনজি চালকের অধীনে উদ্ধারের পর মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে না দিয়ে সেফুল বেগমকে ভয় দেখিয়ে থানা থেকে বের করে দেন দারোগা। একপর্যায়ে এসআই ফখরুল বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারীর কাছ থেকে আরও ৭ হাজার টাকা নেন। পরদিন তিনি কোর্টে গিয়ে দেখেন তার মেয়েকে একটি জিডি মূলে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এসআই ফখরুলের এমন আচরণে নিরুপায় হয়ে এসআইয়ের বিরুদ্ধে সিলেট পুলিশ সুপার বরাবর ওই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সেফুল বেগম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেছেন এসআই ফখরুল ইসলাম।

এসআই ফখরুলের বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণের কথা মিথ্যা দাবি করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, মেয়েটি পূর্ণবয়স্ক। তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে রিপনকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়েটিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মেয়েটিকে রিপনের জিম্মায় দেন।