আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

করোনায় বিপর্যস্ত রাজনৈতিক দল, ঈদে নেতারা ঢাকায়

news-image

করোনায় রাজনৈতিক দলগুলোও বিপর্যস্ত৷ দলের নেতা-কর্মী এবং এমপিরা আক্রান্ত হয়েছেন, মারাও গেছেন৷ তারপরও এবারের ঈদে সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে বড় দুই দলের নেতাদের দাবি৷
জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৮০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ আর মন্ত্রীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন৷ করোনায় মারা গেছেন দুই জন সংসদ সদস্য৷ ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহও মারা গেছেন একই কারণে৷

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, করোনায় আওয়ামী লীগের এক হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মী মারা গেছেন৷ আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার৷ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো. কেউ মুভ না করে যে যার যে যারা অবস্থানে থেকে যেন ঈদ করেন৷

ফলে এবার আওয়ামী লীগের অধিকাংশ মন্ত্রী এবং এমপিই ঢাকায় অবস্থান করছেন৷ তবে তারা তাদের লোকজনকে দিয়ে ঈদের আগেই যার যার এলকায় শাড়ি ও লুঙ্গিসহ গরিব মানুষের মধ্যে ঈদের উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন৷ আর ত্রাণ মন্ত্রনালয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে৷ তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওই সহায়তা নির্ধারিত কিছু মানুষের হাতে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে৷
ঢাকায় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপির সাথে কথা বলে জানা গেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সবার মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ তাই এমপি-মন্ত্রীদের বড় একটি অংশ ঢাকায়ই বাসায় অবস্থান করছেন৷ বাসার বাইরে বের হচ্ছেন না৷ ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন আরো সাত দিন বাড়ানো হচ্ছে৷ ফলে অনেকেই ঢাকা ছাড়েননি৷
একজন মন্ত্রী বলেন, ‘‘যারা এলাকায় আগে থেকেই আছেন তারা আছেন৷ কিন্তু ঈদ উপলক্ষে মন্ত্রী এমপিদের এলাকায় যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে৷ কারণ, তারা গেলে মানুষের ভিড় হবে৷ সামাজিক দূরত্ব মানা যাবে না৷ তবে অনেকেই এলাকায় শাড়ি, লুঙ্গি এবং খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন৷ আমরা মানুষের কাছে যাই৷ আর আজকে ঈদের দিন আমি যদি এলাকায় থাকতাম তাহলে মানুষ তো আমার কাছে চলে আসত৷”
বিএনপির দাবি, তাদের চার শতাধিক নেতা-কর্মী এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন৷ আর আক্রান্ত কয়েক হাজার৷ বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানা বলে, ‘‘আমাদের দলের চেয়ারপার্সনই তো করোনায় আক্রান্ত৷ যারা মার গেছেন তাদের হিসাব আমাদের কাছে আছে৷ কিন্তু আক্রান্ত তো অনেক৷ তাদের হিসাব রাখা সম্ভব নয়৷’’

‘‘তারপরও এবারের ঈদে আমাদের নির্দেশনা হলো যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই যেন মানুষের পাশে দাঁড়ান,’’ জানান বিএনপির এই সংসদ সদস্য৷ তিনি নিজেও ঢাকায় অবস্থান করছেন৷
এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে দেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দলের তৃনমূলের বিপূল সংখ্যক কর্মী করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন৷ আর্থিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছেন তারা৷ সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও এখন নানা ধরনের সহায়তা প্রয়োজন৷ আওয়মী লীগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ের নেতা এবং দলীয় এমপিদের তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ বিএনপিও চেষ্টা করছে তাদের কর্মীদের মধ্যে যারা বিপদ্রগ্রস্ত তাদের পাশে দাঁড়াতে৷

দেশের কয়েকটি এলাকায় কথা বলে জানা গেছে এমপিদের অনেকেই রোজার আগেই ঢাকায় চলে এসেছেন৷ তারা করোনার মধ্যে আর এলাকায় ফেরেননি৷ আর ত্রাণ বা সহায়তা যা দেয়া হচ্ছে তা প্রশাসনের মাধ্যমে৷ তাতে এমপি বা জনপ্রতিনিধিদের কোনো ভূমিকা নাই৷ তারা নিজেদের উদ্যোগেও তেমন কিছু করছেন না৷

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার একজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ‘‘সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, দলীয় নেতা-কর্মীরা যারা করোনায় বিপদাপন্ন তাদেরও সহয়তা করা যাচ্ছে না৷ ঈদে আলাদা করে কোনো সহয়াতা নেই৷ সবাই ফেসবুকে হাপিত্যেশ করছেন৷ বাস্তবে কিছু হচ্ছেনা৷’’ তিনি বলেন, ‘‘এমন দুরবস্থা আগে কখনো দেখিনি৷’’
ভোলার চরফ্যাশান এলাকার একজন বিএনপি নেতা জানান, ‘‘দলীয় পর্যায়ে এই ঈদে করোনায় যারা সহায়তা করছেন তারা ব্যক্তিগতভাবে করছেন৷ ধনী মানুষরা ঈদে এমনিতেই দান খয়রাত করেন৷ সেরকমই করা হচ্ছে৷ আলাদা করে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নাই৷’’

তিনি বলেন, নেতাদের অধিকাংশই করোনার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন৷ কয়েক মাস ধরে তারা এলাকায় নাই৷ আর কর্মীদের যারা করোনায় বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন গ্রামে তাদের চিহ্নিত করা যায়৷ কিন্তু ঢাকায়ই আক্রান্ত হয়েছেন বেশি , ফলে তাদের চিহ্নিত করাও জটিল৷ তাই সাহায়তা করাও যাচ্ছে না৷