আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের মজুরি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

news-image

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার কতিপয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারের (ইউপি সদস্য) বিরুদ্ধে কর্মসৃজন প্রকল্পের দরিদ্র শ্রমিকদের মজুরির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঈদ উপলক্ষে পাওয়া সরকারি সহায়তার টাকা নানা অজুহাতে হাতিয়ে নেওয়ায় অনেক শ্রমিক এখন দুর্দশার মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্যরা কোনো কোনো শ্রমিকের সমুদয় টাকা জোর করে নিয়ে নিয়েছেন। এতে ঈদের আগেই শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর ঈদকে সামনে রেখে কর্মসৃজন প্রকল্পের টানা ৫৮ দিনের কাজ বাবদ শ্রমিকরা বকেয়া টাকা হাতে পেয়েছেন। মোবাইলে শ্রমিকরা মজুরির টাকা পেয়ে ঈদ উদযাপনের আশায় বসে ছিলেন। কিন্তু পেকুয়া উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য মিলে তাদের নিয়ন্ত্রিত শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউপি সদস্যগণ এ টাকা নিয়ে ঈদ করবেন আর শ্রমিকরা হবেন ঈদ বঞ্চিত-এমন বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। সেই সঙ্গে টাকা আদায়ের বিষয় নিয়ে শ্রমিক এবং কতিপয় ইউপি সদস্যের মধ্যে মোবাইলের কথোপকথন এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমার সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মসৃজনের টাকা নিয়ে শ্রমিক এবং ইউপি মেম্বারের কথোপকথনের ব্যাপারটি নজরে আসার পর আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি আইনগত পদক্ষেপ নেব। ’ তিনি জানান, এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দেশের দারিদ্র্যবিমোচন তথা সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার একটি পাইলট প্রকল্পের (কর্মসৃজন) মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অসচ্ছল ও বয়স্কদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ প্রকল্পের অধীনে ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে অবকাটামোর বা রাস্তার সংস্কারে শ্রমিকেরা কাজ করে। বিনিময়ে একজন শ্রমিক দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন। আগে মজুরির টাকা ছিল দৈনিক ২০০ টাকা।

এ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় তথা কার্যালয়ের কর্মকর্তা (পিআইও)কে। প্রতি ৪০ দিন অন্তর শ্রমিকদেরকে মজুরি প্রদান করা হতো। আগে মজুরি প্রদানের সময় প্রকল্প কমিটির প্রধান অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিত। কিন্তু শ্রমিকের টাকা যাতে বেহাত না হয় সেজন্য সরকার প্রধানের নির্দেশনায় প্রতি শ্রমিককে মোবাইল ব্যাংকিং নগদ/বিকাশের মাধ্যমে টাকা প্রদানের নিয়ম চালু করা হয়।

কিন্তু এতেও শ্রমিকেরা রক্ষা পাচ্ছেন না। অসাধু জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা টাকা পৌঁছানোর খবর পাওয়া মাত্র হুমড়ি খেয়ে পড়ে টাকার জন্য শ্রমিকের বাড়িতে বাড়িতে। কাজে অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন অজুহাতে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা হাতিয়ে নেন শ্রমিকের টাকা। টাকা না দিলে শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া হয়।

পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী শ্রমিক আবু তৈয়ব দুঃখের সঙ্গে জানান- ‘আমার সংসারে এক স্ত্রী ও ৫ কন্যা সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছিলাম। কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় আমি শ্রমিক হিসাবে কাজ করি প্রতিদিন। কাজের মজুরির টাকা নিয়ে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদেরকে স্কুলের গাইড ও ঈদে নতুন জামা কিনে দেব এ আশায় বুক বেঁধেছিলাম এতদিন। কিন্তু আমার সেই আশা মাটি হয়ে গেছে। ’

তিনি জানান, তার মোবাইলের বিকাশ নম্বরে টাকা পৌঁছার খবরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার নুরুল আজিম ও কাজের মাঝি মাহমুদুল করিম তাকে ধরে জোরপূর্বক মোবাইলের সম্পূর্ণ টাকা উঠিয়ে মাত্র ৪ হাজার টাকা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। শ্রমিক আবু তৈয়বকে বলে এনিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি করলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এমনকি কোনো সরকারি সাহায্যের আওতায় নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। জানতে চাইলে এ টাকা থেকে চেয়ারম্যানকে ও পি আই ওকে দিতে হবে বলে জানান ইউপি মেম্বার।

অপর ভুক্তভোগী মনজুরা বেগমও অনুরূপ অভিযোগ করে বলেন, ৪০ দিন পর তার মোবাইলের বিকাশে ১৭ হাজার ২০০ টাকা আসে। আর মোবাইলে টাকা জমা ছিল ২০০ টাকা। টাকা আসার খবর পেয়ে মেম্বার আজিম ও মাঝি মাহমুদুল করিম এসে তাকে ডেকে বিকাশের দোকানে নিয়ে মাত্র ৩ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা তারা নিয়ে নেয়। এমনিভাবে প্রায় ১২০ জন শ্রমিকের কাছ থেকে তারা টাকা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে নুরুল আজিম মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এমনসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। ’

পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ দিনের কাজ শেষ হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও রাজাখালী ইউনিয়নে গত ২৭ এপ্রিল কর্মসৃজন প্রকল্পের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র শ্রমিকদের মোবাইলে উপস্থিতির মাষ্টার রোল অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নগদের মাধ্যমে টাকা প্রদান করা হয়। পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ জানিয়েছেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়নে ৯৩২ জন শ্রমিকের মোবাইলে এ টাকা একযোগে আসে। টাকা আসার পর থেকেই এধরনের অভিযোগও চাওর হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব মেহের নামার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ শাকের জানান; তার মা রাশেদা বেগম কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক। তার মায়ের মোবাইলে ১৭ হাজার ২০০ টাকা আসে। ইউপি সদস্য মো. শাহেদুল ইসলাম তাদের ঘরে গিয়ে জোর করে সমুদয় টাকা নিয়ে যায়। একই পাড়ার আবুল আহমদের ছেলে নুরুচছফার নিকট থেকে জোর করে ১৩ হাজার টাকাসহ পাড়ার আরো কমপক্ষে ১৫ জন শ্রমিকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পেকুয়া সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোরার পাড়ার নাছির উদ্দিন নামের এক শ্রমিকের সঙ্গে ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলামের মোবাইল কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। শ্রমিক নাছির উদ্দিন জানান, উক্ত ইউপি সদস্য শনিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে খোদ চেয়ারম্যানের সামনেও টাকা দাবি করেছে। টাকা না দিলে তাকে (শ্রমিক নাছির) দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ভাইরাল হওয়া অডিওটি তিনি এবং ইউপি মেম্বারের বলে তিনি স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ বলেছেন- ‘উক্ত মেম্বার শ্রমিকের কাছে টাকা চেয়েছে দুষ্টুমির ছলে। ’ পেকুয়া সদর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে একই অভিযোগ উঠেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

নৌকায় বিদায় নেবেন দুর্গা, হবে বিজয় শোভাযাত্রা-সিঁদুর খেলা

অবৈধভাবে বালু তোলার দায়ে পাঁচজনের কারাদন্ড

জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: আইজিপি

অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে অনেকে এখন শূন্য থেকে কোটিপতি -সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাটখিলে অবৈধভাবে বালু তোলায় ৩ জনের কারাদণ্ড

অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে রাতারগুল জলারবন-প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার প্রতিবাদে ‘নাগরিকবন্ধন কর্মসূচি’

আজ মহানবমী, কাল শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

ধর্ষণের পর অচেতন পরীক্ষার্থীকে হাসপাতালে রেখে পালাল বখাটে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী প্রকল্পের টাকায় খাসজমিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়

ব্রিজের রেলিংয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কা, ঝরল তিন প্রাণ

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসায় ওঠার পরদিন মিললো নারীর লাশ