আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

কান্তজির মন্দিরে ২৬৭ তম রাস উৎসব

news-image

দিনাজপুরের কাহারোলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর (কান্তজিউ) মন্দির প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী রাস উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতি বছর বাংলা সনের কার্তিক মাসের রাস পূর্ণিমার রাতে রাধা-কৃষ্ণের রাস উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে এই মেলা শুরু হয়। ১৭৫২ সাল থেকে এখানে রাস উৎসব উদযাপন হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এটা উৎসবের ২৬৭তম বছর।

সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত থেকে এই মাসব্যাপী মেলা শুরু হয়। রাস উৎসব ও মেলায় বিভিন্ন জেলাসহ দেশ-বিদেশের ভক্ত-পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা ভিড় জমান।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর হতে চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর আগের দিনে পূণর্ভবা নদীপথে নৌবহরে করে কান্তনগর মন্দিরে থাকা কান্তজিউ বিগ্রহ দিনাজপুরের রাজবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ মাস থাকার পর আবার কার্তিক মাসের পূর্ণিমার একদিন আগে ভক্ত-পুণ্যার্থীদের অংশগ্রহণে পায়ে হেটে কান্তজিউ বিগ্রহ ফের কান্তনগর মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। রাস উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশেপাশে একমাস ব্যাপী রাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দেশের প্রায় সব জেলা ছাড়াও ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকেও শত শত নারী-পুরুষ ভক্ত-পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা আসেন।

জনশ্রুতি আছে, তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা প্রাণনাথ রায় ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরে ১৭৫২ সালে তারই পালক পুত্র রামনাথ রায় মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ করেন। কান্তজিউ মন্দির বা কান্তনগর মন্দির নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত। ১৮ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি ৩ তলা বিশিষ্ট ছিল এবং এর ৯টি চূড়া বা রত্ন ছিল। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পের ফলে চূড়াগুলো ভেঙে যায়। পরবর্তীতে মন্দিরটির সংস্কার করা হলেও চূড়াগুলো আর যথাস্থানে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।  

রাস উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা নাসিম আহমেদ, রাজ দেবোত্তর এস্টেট’র সদস্য ও দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্ত ঘোষ, প্রেম নাথ রায়, কাহারোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম ফারুক, জেলা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান বাবু ও মীরা মাহবুব প্রমুখ।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাস উৎসব অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি স্থান। এখানে বেশ উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়াও সব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর উন্নয়ন হচ্ছে। দিনাজপুরের রাজবাড়ী, সীতাকোট বিহারসহ যাবতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে, সেসবেরও উন্নয়ন হচ্ছে।’

কান্তজির মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পুলিন চাটার্জী বলেন, ‘প্রতি বছর কার্তিক মাসের রাস পূর্ণিমায় এই রাস উৎসব হয়, যা ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভগবানের আরাধনা ও পূণ্য লাভ করতে ভক্তরা এখানে আসেন। প্রায় ২৬৭ বছর ধরে রাজ পরিবারের ঐতিহ্য হিসেবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে।’

কাহারোল থানার পরিদর্শক (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, মন্দির ও রাসমেলাকে ঘিরে যে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।


এ জাতীয় আরও খবর

সলঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখলেরচেষ্টা ঃ থানায় অভিযোগ

প্রয়োজনে নিজের খাবার সবার সাথে ভাগ করে খাবঃ রমজান আলী

ভাইরাস সংক্রমন রোধে BIDA(বিডা) এবং মানিকগঞ্জ এইচডি’র যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয় দিন শহরজুরে জীবানুনাশক স্প্রে

সিরাজগঞ্জে পুলিশকে মারপিট : ৬ পুলিশ আহত তমিজউদ্দিন দইঘরের ২ স্বত্বাধিকারী গ্রেফতার

ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও মানিকগঞ্জ [এইচডি] শহরজুরে জীবাণুনাশক স্প্রে

সিরাজগঞ্জে সংক্রমন প্রতিরোধ আইন অমান্য করে বিক্রয় প্রতিনিধিদের অবৈধভাবে জমায়েত করায় লিভার ব্রাদার্স পরিবেশককে অর্থদন্ড

কুষ্টিয়ায় সীমিত পরিসরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস 

বিশ্বে করোনা মহামারীতে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, ৩০০ কোটি মানুষ লকডাউনে

কার্যত ‘লকডাউনে’ ঢাকা

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

সিরাজগঞ্জে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন এসিল্যান্ড

কুষ্টিয়ায় ৭ মাসের শিশু আইসোলেশনে, পুরো বাড়ি লকডাউন