আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

কারামুক্ত কিশোর অজানা আতঙ্কে

news-image

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর প্রায় ১০ মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কারামুক্ত কিশোরের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। অসুস্থতার পাশাপাশি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় ‘ট্রমা’য় আছেন তিনি। অজানা এক আতঙ্ক তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে। কারামুক্তির পরই তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিশোরের বড় ভাই সাংবাদিক আহসান কবির কালের কণ্ঠকে এসব কথা জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি একটি সাদা প্রাইভেট কারে করে কারাগার এলাকা ছেড়ে যান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের কারো সঙ্গে কথা বলেননি।

কাশিমপুর কারাগার-২-এর জেল সুপার আবদুল জলিল জানান, আহমেদ কবির কিশোরের জামিনের কাগজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কারাগারে পৌঁছায়। যাচাই-বাছাই শেষে দুপুর ১২টার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাফটকে কিশোরের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল রাতে কিশোরের বড় ভাই আহসান কবির বলেন, ‘কিশোরকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর ডান কান থেকে পুঁজ পড়ছে আর বাঁ পায়ে ইনফেকশন হয়েছে। ডায়াবেটিসের সমস্যা বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কিশোর ট্রমার মধ্যে আছে। সে ভীষণ আতঙ্কিত। মুশতাকের মৃত্যু সে মেনে নিতে পারছে না। আরেকটি সমস্যা হলো, ট্রমার কারণে সে অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছে।’

এর আগে কয়েকবার জামিন আবেদন নাকচ করার পর গত বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ কিশোরের জামিন আদেশ দেন।

গত বছরের ৬ মে রমনা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অচেনা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‌্যাব-৩। কিশোরসহ আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ন, অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়।