আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

কুমিল্লায় কাউন্সিলরসহ ২ জনকে গুলি করে হত্যা

news-image

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সোহেলকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকের এ ঘটনায় আরও নিহত হয়েছেন ওই ওয়ার্ডের শ্রমিক লীগের সভাপতি হরিপদ সাহা। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপতালে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের ধারণা, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণেই সোহেলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টায় কুমিল্লা নগরের পাথরিয়াপাড়া থ্রিস্টার এন্টারপ্রাইজে কাউন্সিলর কার্যালয়ে বসা ছিলেন কাউন্সিলর মো. সোহেল। এ সময় ৪ থেকে ৫ জন মুখোশধারী পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় কাউন্সিলর কার্যালয়ে ঢুকে তাদের গুলি করে। এ সময় ৫২ বছর বয়সী কাউন্সিলর সোহেল, শ্রমিক লীগ নেতা হরিপদ দাস, রাসেল, আওয়াল হোসেন রিজু, মাজেদুল হক বাদল, জুয়েল ও অ্যাডভোকেট সোহেল চৌধুরী গুলিবিদ্ধ হন।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ বলছে, এ সময় সোহেলের শরীরে ৮টি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি গুলি তার মাথায়, দুটি বুকে, অন্য চারটি গুলি পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৮টার দিকে সোহেল ও হরিপদ সাহা মারা যান। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. মহিউদ্দিনও দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া বলেন, ‘এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা- ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন কাউন্সিলর সোহেল। এ নিয়ে মাদক কারবারিদের একটি সিন্ডিকেট সোহেলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। তারাই এ ঘটনা ঘটাতে পারে।’
আর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে। সন্ত্রাসীরা কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালিয়েছে।
ঘটনার পর কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত মানুষ পাথরিয়াপাড়া সড়কে বিক্ষোভ করছেন। র‌্যাব ও পুলিশ ক্ষুব্ধ জনতাকে সরানোর চেষ্টা করছে। কাউন্সিলর কার্যালয়ের ভেতরে সোহেলের বসার স্থানে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। কার্যালয়ের চেয়ার ভাঙা। ঘটনাস্থলে রাত ৮টার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ঢুকে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়েছে শুনেছি। এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। আমারা এদিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের গুলিতে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ দুজন নিহত হয়েছেন। কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করেছে একটি দল। আশা করছি খুব শিগগরি জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা যাবে।’
তিনি জানান, দুজনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সোহেল সুজানগর এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। তিনি কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্যও ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি প্রথম কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৭ সালেও জয়ী হন তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ছিলেন।
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘সোহেল মহানগরের সদস্য ছিলেন। শনিবারও তার সঙ্গে একটি সভা করে এসেছি। এলাকায় তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’