আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

কুষ্টিয়ায় করোনা রোগীদের নিয়মিত খোঁজ নিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন চেয়ারম্যান আতা

news-image

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া:কুষ্টিয়ায় করোনা আক্রান্ত প্রতিটি রোগীর নিয়মিত খোঁজ নিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। হাসপাতাল থেকে তালিকা সংগ্রহ করে প্রতিটি রোগীদের কাছে ফোন দিয়ে শারিরীক খোঁজ অবস্থার খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনের কথা জেনে সেইভাবে ব্যবস্থা নেন তিনি। এসব রোগীদের বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার, ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দেয়ার মত কাজ করেন তিনি। এ জন্য তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিদের দিয়ে ৪২ জনের স্বেচ্ছাসেবক টিম করেছেন। এ টিমের সদস্যরা প্রয়োজনীয় সব কিছু রোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারন মানুষ। রোগীরাও মানসিকভাবে স্বস্তি পাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি সুমন নামের এক ব্যক্তি করোনা সনাক্ত হন। তিনি বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। করোনা সনাক্ত হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। চিকিৎসক বা অন্য কেউ তার খোঁজ খবর না নেওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একদিন রাতে তার কাছে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। আমি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলছি। সুমন প্রথমে মনে করেছিলেন ভুল করে তার কাছে চেয়ারম্যান ফোন দিয়েছেন। পরে তার শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নিলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সমুন বলেন আমি মনে হয় আর বাঁচব না। আমার কেউ খোঁজ খবর পর্যন্ত নেয়নি। সাথে সাথে তার বাড়িতে শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক টিমের প্রধান হাসিব কোরাইশীকে তার বাড়িতে পাঠান। তার যাবতীয় চিকিৎসাসহ খাদ্যের ব্যবস্থা করেন।

একইভাবে শহরের মজমপুর এলাকার মনামী টাওয়ারে এক নারীর করোনা পজেটিভ হলে নানা জটিলতায় তার অবস্থা খারাপের দিকে যায়। ওই নারীর অসুস্থতার বিষয়টি জানতে পেরে রাত ১২টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক টিম পাঠান। পরে টিমের সদস্যরা স্যালাইন, ইনজেকশনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ওই বাড়িতে পৌঁছে দেন। নার্স দিয়ে তার সেবার ব্যবস্থা করেন। এতে মানসিকভাবে ওই নারীর পরিবার অনেক শক্তি পান।

ওই নারীর স্বামী আব্দুল গফ্ফার খান ইমন বলেন,‘ করোনা সনাক্ত হওয়ার পর ডায়রিয়া হয়ে আমার স্ত্রী ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। রাতে কোথাও নিয়ে যাব এমন অবস্থা ছিল না। পরে একটি মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা বাসায় এসে চিকিৎসাসহ সব ব্যবস্থা করে দেয়। সেই রাতে স্বেচ্ছাসেবকরা আসায় আমার স্ত্রী সেবা পায়। এ জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ। এমন উদ্যোগে অনেক রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভাল হয়েছে।

জানা গেছে, কুষ্টিয়া পৌর এলাকা ও সদর উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজারের বেশি রোগী সনাক্ত হয়েছে। এসব রোগীদের তালিকা সংগ্রহ করে প্রত্যেকের মোবাইলে ফোন দিয়ে তাদের খোঁজ নিচ্ছেন। শুধু ফোন দেয়া পর্যন্ত শেষ নয়, তাদের কি চাহিদা রয়েছে সেই মোতাবেক স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে তাদের বাড়িতে প্রয়োজনীয় সব জিনিস পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

সুমন নামের ওই রোগী জানান,‘ করোনা সনাক্ত হওয়ার পর ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এতে আমার অসুস্থতা বেড়ে যাচ্ছিল। এমন সময় একদিন চেয়ারম্যান আতা ভাই ফোন দিয়ে তার অবস্থা শুনে বাড়িতে লোক পাঠান। তারা আমার অনেক উপকার করেছে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রধান হাসিব কোরাইশী বলেন, শহরে করোনা রোগী বাড়তে থাকলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার উদ্যোগে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিদের একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করা হয়। এ টিমের সদস্য ৪২ জন। তারা শহরের ২১টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন। নতুন কোন করোনা রোগী সনাক্ত হলেই তার সাথে যোগাযোগ করা হয়। এসব সদস্যদের সেবা দেয়ার মত প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

করোনা পজেটিভদের কি প্রয়োজন তা জেনে আমরা পৌঁছে দিয়ে আসছি। দিন ছাড়াও রাতের যে কোন সময় ফোন পেলে আমরা সেখানে ছুটে যায়। উপজেলা চেয়ারম্যান আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। আমরাও মানবিক দিক বিবেচনা করে রিস্ক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন,‘ মানবিক বোধ থেকে প্রতিটি রোগীর মোবাইলে ফোন দিয়ে নিয়মিত খোঁজ নিয়ে আসছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সদর এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির নির্দেশনায় আমরা করোনা রোগীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সামাজিক বা পারিবারিকভাবে যাতে কোন রোগী সমস্যায় না পড়েন সে জন্য আমরা মানবিক কমিটি করেছি।

রোগীদের সেবার জন্য একটি টিম করে দিয়েছি। তারা রোগী ও তার স্বজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা ফোন ধরছেন না এমন রোগীকে তিনবার পর্যন্ত ফোন দিয়েছি। আমার টিমের সদস্যরা রাত-দিন প্ররিশ্রম করে যাচ্ছে।’

এদিকে কাজ করতে গিয়ে এ টিমের বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। টিমের সদস্যদের সতেজ ও মনোবল ধরে রাখতে তাদেরও নানা ভাবে সহযোগিতা করে আসছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন,‘ করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রতিটি রোগীর খোঁজ নিচ্ছেন। আমরাও উপজেলা চেয়ারম্যানকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছি। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে রোগীদের বাড়িতে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিয়ে আসছি। চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।

এ জাতীয় আরও খবর

শেখ রাসেলের জন্মদিনে ৫৮ কেজি ওজনের কেক কাটলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন ১৮ চেয়ারম্যান

‘প্রশাসনে বাংলাদেশি যেমন আছে, অসংখ্য পাকিস্তানিও আছে’

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আহ্বান

শিশু শ্রমে নির্মাণ হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময়

বিএনপি-জামায়াত বা তৃতীয় শক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পীরগঞ্জে জেলে পল্লিতে হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

উপকূলে ৩নং সতর্ক সংকেত, দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

‘শেখ রাসেল স্বর্ণ পদক’ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

কোন শিশুকে যেন রাসেলের ভাগ্যবরণ করতে না হয়: প্রধানমন্ত্রী

ফতুল্লায় মিশুক চালককে হত্যার দুই ঘাতক গ্রেপ্তার