আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

কুষ্টিয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব’র জন্মবার্ষিকী পালন

news-image

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া // বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে, কুষ্টিয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯০ তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ৮ আগষ্ট শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় কুষ্টিয়া শহরস্থ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে কেক কেটে ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্যদিয়ে এ জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি ড. মোফাজ্জেল হক। পরিচালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুনীল কুমার চক্রবর্তী। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন, জেলা শাখার সহ-সভাপতি গোপা সরকার, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম সিদ্দিক কচি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি হারুন অর রশিদ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া পৌর শাখার সভাপতি শ্যামলী ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, জেলা শাখার সদস্য প্রীতম মজুমদার প্রমুখ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বরুণ বিশ্বাস, তাপস পাল ও শোভন বিশ্বাস।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি ড. মোফাজ্জেল হক বলেন, জাতির পিতা থেকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে ওঠার পেছনে যার অবদান অনস্বীকার্য, তিনি হচ্ছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণা ও আত্মোৎসর্গ অনস্বীকার্য। তার কারণেই একটি জাতির মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপন করে এর স্বাদও এনে দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
আমাদের বঙ্গমাতা ছিলেন জ্ঞানী, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্ববান এবং ধৈর্যশীল মানবিক মানুষ। জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ লেখার মূল প্রেরণা ও উৎসাহ ছিল তাঁর জীবনসঙ্গী ফজিলাতুন্নেছার। শেখ মুজিবের ১২ বছর কারাবাস-কালে ছেলেমেয়েদের পিতৃস্নেহ দিয়েছেন বেগম মুজিব। শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনে প্রধান অবলম্বন ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সর্বগুণে গুণান্বিতা ফজিলাতুন্নেছার সাহায্য ও সহযোগিতা না পেলে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব হত না। বেগম মুজিব তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে কাটিয়েছেন।
১৯৬৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে লাহোরে বৈঠকে যোগদান করতে অনুমতি দিয়েছিল, তখন বেগম মুজিব তাঁর স্বামীকে এভাবে বৈঠকে যোগদান না করার পরামর্শ দেন। এবং বলেন- ‘যদি বৈঠকে যোগ দিতেই হয়, তবে মুক্ত মানুষ হিসেবে বৈঠকে যোগ দেবেন।’ কতটুকু আত্মবিশ্বাস ও বিচক্ষণতা থাকলে এ ধরনের পরামর্শ দেয়া যায় তা অনুভবের বিষয়। শেখ মুজিব ফজিলাতুন্নেছার কথা রেখেছিলেন। তিনি প্যারোলে মুক্তি নেননি। বঙ্গমাতা বুঝতে পেরেছিলেন এই গণআন্দোলনকে রুখে দেয়ার সাধ্য আয়ুব সরকারের নেই। মাওলানা ভাসানী, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সহ অনেকে তখন রাজপথ গরম করে রেখেছিলেন। এদের আন্দোলনে দ্রোহের আগুন জ্বলে উঠলো চারিদিকে। প্রবল
গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় আয়ুব সরকার। বঙ্গবন্ধুর এই নিঃশর্ত মুক্তির পেছনের কারিগর আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা। ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এবং এই মামলায় অভিযুক্তদের গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এবং এই জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব ছিলো না, যদি না বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার মত মানবিক নারীর সহযোগিতা না থাকতো।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ লিখিত ছিল না। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুকে ফজিলাতুন্নেছা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে, ‘তোমার পিছনে ইয়াহিয়ার বন্দুক এবং সামনে মুক্তিকামী মানুষের অগাধ বিশ্বাস আর ভালোবাসা।’ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আত্ম জাগৃতির দীর্ঘ পথ বেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহাকাব্য রচিত হলো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেনাপতিকে পেছন থেকে সাহস যুগিয়েছেন যিনি, তিনি আর কেউ নন, আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা একে অপরের সাথে এত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত যে, কাউকে আলাদা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। পরিশেষে বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে, বঙ্গমাতার অবদান তত বেশি উদ্ভাসিত হবে।