আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ : শিবালয়ে হাজারো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের ইছামতি নদী থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ১৬ ফুট প্রস্থের কাস্টসাগড়া মৌজার শতবর্ষী খালটি কালের বিবর্তে ভরাট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের হাজারো কৃষক। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালের মাথা আটকিয়ে জলাশয় তৈরি করে মাছ চাষ করছেন। এতে প্রায় ৫শ একর তিন ফসলি জমি এখন এক ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার অতিবৃষ্টি হলে সে ফসলও ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের মাঝে রয়েছে যথেষ্ট শঙ্কা। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষির উন্নয়নে তৎকালীন জমিদাররা প্রায় ১৬ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই খালটি পানি নিষ্কাশনের জন্য খনন করেছিলেন। তখন এখানে ধান, পাট, সরিষা, চিনা, গম, পেঁয়াজ, মরিচ, আলু, বেগুনসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হতো। কিন্তু যখন থেকে এ খালের মাথা আটকিয়ে দেয়া হয়েছে তখন থেকে এ এলাকায় একমাত্র ইরি ধান ছাড়া অন্য কোনো ফসল আবাদ করা সম্ভব হয় না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময় জমিতে পানি জমে থাকে। কাস্টসাগড়া, উলাইল, পুঁইশা, বিরাজপুর, ভাওয়ালকান্দি ও আমডালা গ্রামের রহেল উদ্দিন, আব্দুল লতিফ, আবু বক্কর সিদ্দিক, রজ্জব আলী, আওলাদ হোসেন, মো. সালাম, রিয়াদ হোসেন, আক্কাস, মোকলেস, মুক্তার, কেরামত আলী, আব্দুস সাত্তার, আবজাল হোসেন, সাইজুদ্দিন, সুমন হোসেনসহ শতাধিক কৃষক জানান, বেশ কয়েক বছর আগে কাস্টসাগড়া গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন খালের পাশে মাছ চাষের জন্য জলাশয় তৈরি করে খাল আটকিয়ে বাঁধ দেন। এতে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তারা আরো জানান, সম্প্রতি খৈমুদ্দিন নামে এলাকার আরেক ব্যক্তি খালের পশ্চিম দিকে আরেকটি জলাশয় তৈরি করায় পানি নিষ্কাশণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাস্টসাগড়া গ্রামের তসলিম উদ্দিনের ছেলে মো. আজাহার উদ্দিন বলেন, আমি নিজেও একজন কৃষক মানুষ। আমি অবশ্যই এলাকার উন্নয়ন চাই। তবে আমার ভাই মোজাফ্ফর যে পুকুর তৈরি করেছে তাতে খালের পানি প্রবাহে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। মুছিডাঙ্গা বিলের কাছে উদির খালের মাথায় ভাওয়ালকান্দি গ্রামের আব্দুস সালাম বেপারি পুকুর তৈরি করে যে বাঁধ দিয়েছেন তাতেই মূলত খালের পানি যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। পুকুরের পূর্ব দিকের মাত্র একটি চালা দিয়ে যদি পানি যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যায় তবে খালের পানি প্রবাহে কোনো সমস্যা হবে না। উলাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমানকে এ বিষয়ে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান জানান, উলাইলে এ রকম একটি খাল খননের বিষয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। আর খালে বাঁধের বিষয়ে তিনি বলেন, এ মর্মে স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা ইউএনও বরাবর আবেদন করে তার একটি অনুলিপি আমাকে দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ জাতীয় আরও খবর

পদ্মা সেতু: শিল্পের জন্য প্রস্তুত গোপালগঞ্জ

এখন যানবাহনের অপেক্ষায় ফেরি

ফেরিতে পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এলো ছোট গাড়ি

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ

মানিকগঞ্জে পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার

উল্লাসে মেতেছে পদ্মা পাড়ের মানুষ

চার মাস না যেতেই উঠছে ৯ কোটি টাকার সড়কের পিচ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পিঠা উৎসব

নদী ভাঙা মানুষের বিলাপ

সাঁতরে মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলল কিশোরী

বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা, আর প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার পদ্মা সেতু : পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী

সেতুর উদ্বোধনে ফায়ার সার্ভিসের শোভাযাত্রা