আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি

news-image

গত এক দশকে পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায় নারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমানে বার্ষিক মূল্যসংযোজন ৩ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখানে বর্তমানে ৮ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। একটা সময় এই ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ অলীক হলেও এখন তা পরিষ্কার বাস্তব।
মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির হিসাবের ক্ষেত্রে ২১টি প্রধান খাতকে বিবেচনা করা হয়। এসব খাতের মধ্যে অন্যতম পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা-বাণিজ্য। এ খাতে উদ্যোক্তাদের শ্রেণী বিভাজন ও অবদান মূল্যায়নে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ‘হোলসেল অ্যান্ড রিটেইল ট্রেড সার্ভে-২০২০’ শীর্ষক জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপের সাময়িক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের জরিপে সরকারের কোনো না কোনো মাধ্যমে নিবন্ধন রয়েছে এমন উদ্যোক্তাদের তথ্য শুধু অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে নিবন্ধিত খুচরা ও পাইকারি প্রতিষ্ঠান ছিল ২৫ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানে পুরুষ উদ্যোক্তা ছিলেন ১ কোটি ৩৯ লাখ ১ হাজার ৫৬৪ জন। আর নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ২০ লাখ ৩ হাজার ১৮৯। তবে পুরুষের তুলনায় এখনো কম হলেও নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা এক দশকে ১২৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে নারী উদ্যোক্তা ছিলেন ৮৯ হাজার ৮৪৮ জন। এ সংখ্যা ২০০২-০৩ অর্থবছরে ছিল মাত্র ২১ হাজার ৮৬৭। অর্থাৎ দেড় দশকে নারী উদ্যোক্তা বেড়েছে ৮২৯ শতাংশ।

২০১৭ সাল থেকেই অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সদস্য সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১২ লাখ। তবে সংগঠনটিতে প্রায় চার লাখ নারী উদ্যোক্তা ই-কমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেই হয়তো বা সরকারের নিবন্ধন কাঠামোর মধ্যে নেই। কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে এসব উদ্যোক্তা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। গ্রাম পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের পণ্য ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে উই। সম্পূর্ণ দেশীয় পণ্যকেন্দ্রিক উদ্যোক্তাদের এ প্লাটফর্ম এখন সারা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও বাংলাদেশীদের কাছে জনপ্রিয়।
বিবিএসের তথ্যমতে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার মাধ্যমে মূল্যসংযোজন বাড়ছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ১৩ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার মূল্যসংযোজন হয়েছিল, সেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ফলে এ খাতে নারীদের অবদান সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ হিসাবে নিলেও তাদের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার মূল্যসংযোজন হচ্ছে। এর মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বিতা যেমন বাড়ছে তেমনি নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে যাচ্ছে।
বিবিএসের তথ্যমতে, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় ২০০২-০৩ অর্থবছরে মোট ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৪টি অর্থনৈতিক ইউনিট ও প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ছিলেন ২১ লাখ ২৬ হাজার ১৭৭ জন নারী ও পুরুষ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ১২৩টি প্রতিষ্ঠানে ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০ জন ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৭টিতে নিয়োজিত ছিলেন ১ কোটি ৪১ লাখ ৪ হাজার ৭৫৩ জন।

নারী উদ্যোক্তাদের মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প হিসেবে কৃষি ও মৎস্য খাত ছাড়াও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, পর্যটন, ফ্যাশন ও সৌন্দর্য পণ্য, স্বাস্থ্যবিষয়ক পণ্য এবং অনলাইন ব্যবসায় বেশি আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্ট ও অ্যাকসেসরিজ, বিউটি পার্লার, টেইলারিং, রিটেইল শপ, আইটি, ইলেকট্রনিকস, সফটওয়্যার, পাটজাত পণ্য ও হ্যান্ডিক্র্যাফটস খাতে নারী উদ্যোক্তা বাড়ছে। ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো (এনএসডব্লিউ) চালু করলে নারীদের অনেক সমস্যা দূর হবে। ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া থেকে শুরু করে মালপত্র গন্তব্যে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে নারীদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নারীদের অর্থায়ন বাধা দূর করতে হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

পাটুরিয়া নৌ-থানা পুলিশের হাতে চিহ্নিত ছিনতাইকারি আটক

ঘিওরে বউ এর বদলে কপালে জুটলো জেলখানা

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

চার দিন পর সুকানীর লাশ উদ্ধার

লাইফ সাপোর্টে সালমান রুশদি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল পাম্প বিস্ফোরণে ২জন নিহত

ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোচালক নিহত

শিবালয়ে কবরস্থান থেকে ১২ কঙ্কাল চুরি

শিবালয়ে জাতীয় শোক দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা

অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন এবং ওজনে কারচুপি ফতুল্লায় আমিন স্কোয়ার বিডি লিমিটেডকে লাখ টাকা জরিমানা

বই পড়ার অভ্যাস মানুষের কল্পনা শক্তি বাড়ায় : জাফর ইকবাল