আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

গোমতী নদীতে ভেঙে পড়ল হাইড্রোগ্রাফিক পিলার

news-image

কুমিল্লা শহরতলীর টিক্কারচর এলাকায় গোমতী নদীতে পানি, বন্যার পানি বা পানির বিপৎসীমা পরিমাপের হাইড্রোগ্রাফিক পিলারটি নদীতে ভেঙে পড়েছে।

অবৈধ ও বেপরোয়াভাবে গোমতী নদীর মাটি কেটে নেয়ার ফলে এ পিলারটির গোড়ার মাটি সরে গিয়ে এটি পড়ে যায়।

পানির বিপৎসীমা পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোগ্রাফিক পিলারটি ধসে এটি সংরক্ষণ বা পুনঃস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

ফলে গোমতী নদীতে পানি বাড়লে এর সঠিক পরিমাপ করা কঠিন হবে। সেই সাথে কঠিন হবে আগাম সতর্কতা জানানোও। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিও কম নয় বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এর গোড়ায় মাটি নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দেখেও গেছেন। তবু তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এটি পড়ে গেছে। মাটি দস্যুরা দিনরাতে এ নদী থেকে বেপরোয়াভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে। ফলে গোমতী নদী তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারাচ্ছে।

মাঝেমধ্যে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ধরপাকড় হলেও পরে তারা আইনের ফাঁকে বের হয়ে আবার একই কাজ করছে।

গোমতীর টিক্কারচর এলাকায় গোমতী নদীর মাঝখানে ছিল হাইড্রোগ্রাফিক পিলারটি। প্রায় ৩০ বছর পূর্বে এটি বসানো হয়েছিল। হাইড্রোগ্রাফিক পিলারটি স্কেলের বাইরে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা পিলার পানির নিচে ছিল। পানির উপরে শুধু স্কেলটি দেখা যেতো। অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার ফলে হাইড্রোগ্রফিক পিলারটির চারপাশের মাটি সরে যায়, পানির তীব্র স্রোতে পিলারটি ধসে পড়ে।

সূত্র জানায়, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীসমূহের বিদ্যমান পানি সমতলের অবস্থা বিবেচনা করে গাণিতিক মডেলের সাহায্যে ভবিষ্যতে পানি সমতলের অবস্থা কি হতে পারে তা হিসাব করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বার্তা তৈরি করা হয়।
পূর্বাভাস পয়েন্টে পানি সমতল ভিত্তিক ‘হাইড্রোগ্রাফের’ সাহায্যে বন্যা অবস্থার বিবরণ, পূর্বাভাস প্রণয়ন এবং প্রচার ও বিতরণ করা হয়।

“হাইড্রোগ্রাফ” হচ্ছে কোন স্থানের সময়ের সঙ্গে পানি সমতল উচ্চতার পরিবর্তন নির্দেশক লেখচিত্র। পূর্বাভাস “হাইড্রোগ্রাফের” লাল অংশটি পানি সমতলের পূর্বাভাস নির্দেশ করে।

পানি সমতলের উচ্চতার পরিবর্তন (হ্রাস বা বৃদ্ধি) এবং ওই স্থানে বিপৎসীমার তুলনায় পানি সমতলের উচ্চতার হিসাব করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গোমতী নদীতে পানি বন্যার পানি বা পানির বিপৎসীমা পরিমাপের হাইড্রোগ্রাফ যন্ত্রটি ভেঙে মাটিতে পড়ে যাওয়ায় খরস্রোতা গোমতী নদীর পানির পরিমাপ করা খুবই কঠিন হবে।

এমনিতেই গোমতী নদীর তলদেশ কুমিল্লা নগরীর সমতলের সমান। আর মাটি কেটে নেয়ায় নদীর তীর বা শহররক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর উপর হাইড্রোগ্রাফ যন্ত্রটি ভেঙে পড়ায় ঝুঁকি রয়ে গেছে। দ্রুত এটি নতুন করে স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।