আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাটি তুলে বিক্রি

news-image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ক্যানেলঘাট-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি তুলে বিক্রি করছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এতে গভীর গর্ত হয়ে রাস্তা ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ক্যানেলঘাট–সংলগ্ন নুরু চেয়ারম্যানের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মার ক্যানেল বা শাখানদী। এর বিপরীতে রয়েছে ইদ্রিস মিয়ার পাড়া। দুই গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নদী থেকে প্রায় দুই মাস ধরে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্রের সাহায্যে মাটি তুলে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী আফজাল মোল্লা ও লোকমান মণ্ডল।

যেখানে খননযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে নুরু চেয়ারম্যানের গ্রাম ও উত্তরে ইদ্রিস মিয়ার পাড়া যাতায়াতের রাস্তা। নুরু চেয়ারম্যান গ্রাম থেকে দেবগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিমে যাতায়াতের জন্য নদীর পাড় ধরে রয়েছে আরেকটি রাস্তা। দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউপির নদীভাঙনের শিকার দুই শতাধিক পরিবার রাস্তার পাশ ঘেঁষে বসতি গড়ে তুলেছে। গভীর গর্ত করায় ইদ্রিস মিয়ার পাড়ার রাস্তা ও দেবগ্রাম রাস্তার পাশ থেকে মাটি ধসে পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গভীর গর্ত হওয়ায় রাস্তার পাড়ও ধসে পড়তে পারে। এতে এলাকার বসতবাড়িও ভাঙনঝুঁকিতে পড়ছে। মাটি বাণিজ্যের সঙ্গে সরকারি দলের অনেকে জড়িত থাকায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আলামিন ইসলাম বলেন, ‘বহুদিন ধরে দেখছি, খননযন্ত্র দিয়ে মাটি উত্তোলন করছে। শুনলাম, সরকারিভাবে যাঁদের ঘর দিয়েছে, ওই সব ভিটা উঁচু করার জন্য মাটি তোলা হচ্ছে। অথচ পরে দেখলাম, কাজ শেষ হয়েছে আরও অনেক আগেই। এখন পর্যন্ত মাটি উত্তোলন থেমে নেই। এই মাটি পাইপ দিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি স্থানে স্তূপ করা হচ্ছে। সেখান থেকে বিক্রি করা হচ্ছে।’

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘কিছুদিন আগে সরকারি বরাদ্দকৃত ঘরের জন্য লোকমান মণ্ডল নামের একজন মাটি তুলছিল বলে জানি। পরে শুনেছি নতুন করে আফজাল মোল্লা মাটি কাটছেন। অনেক দিন ধরে মাটি কাটায় সেখানে গভীর গর্ত হয়েছে। এতে রাস্তা ও পাশের বসতবাড়ি ভাঙনঝুঁকিতে পড়ছে।’

সম্প্রতি ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় খননযন্ত্রের মালিক আফজাল মোল্লার ছোট ভাই জালাল মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বড় ভাই (আফজাল মোল্লা) জরুরি কাজে বাইরে রয়েছেন। আমি কাজ দেখাশোনা করছি। প্রতিদিন তিনজন শ্রমিককে দিয়ে মাটি খননের কাজ করা হচ্ছে।’
গতকাল সোমবার আফজাল মোল্লা বলেন, ‘এক মাসের বেশি সময় ধরে মাটি কাটছি। নদীভাঙনের শিকার মানুষজন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে একটি গ্রামের মতো করছে। নুরু চেয়ারম্যানের পাড়ায় কয়েকটি বসতভিটায় মাটি ফেলা হচ্ছে।’

আফজাল মোল্লা দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে মাটি কাটা শেষ হবে। এখানে গভীর গর্ত হলেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় সরকারি কোনো ঘর বরাদ্দ নেই। সরকারি বরাদ্দের ঘরে মাটি ফেলানোর কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।