আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

গ্রামের মানুষ করোনাকে জ্বর-সর্দি ভাবছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

news-image

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে শহরের তুলনায় সংক্রমণ গ্রামাঞ্চলে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। আর গ্রামের মানুষজন করোনাকে স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি হিসেবেই ভাবছে।

তিনি বলেন, রোগীর পরিস্থিতি জটিল হলে হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু ততক্ষণে আর চিকিৎসকদের কিছুই করার থাকছে না।

রোববার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আয়োজনে এক ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামের লোকজনের যখন শ্বাসকষ্ট একদম বেড়ে যায়, তখন তারা হাসপাতালে ছুটে আসে। কিন্তু তখন তাদের ফুসফুসের প্রায় ৭০ শতাংশের মতো আক্রান্ত হয়ে যায়। তাদের অক্সিজেন নেমে যায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে। তখন আর চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। আমাদের চিকিৎসক-নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তখন আর তাদের ফিরিয়ে আনতে পারেন না।
জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে পারিবারিক কলহ ও বাল্যবিয়ে বেড়েছে। এ সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি একটু কমেছে। মানুষ ক্লিনিক ও হাসপাতালে আসতে ভয় পায়। অভিভাবকরা কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। হোম ডেলিভারি বা ঘরে প্রসবটাই বেড়েছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার যাতে বেড়ে না যায়, আমাদের সেই চেষ্টা ছিল।

তিনি বলেন, করোনার সময় ঘরে ডেলিভারি বেড়েছে, এটা একটা বিষয়, আর দরিদ্র পরিবারে বাল্যবিয়ে বেড়েছে। পারিবারিক কলহ এবং শিশুদের প্রতি অবহেলাও এই কারোনার সময়ে বেড়েছে। পৃথিবীর সর্বত্রই এটি দেখা গেছে।

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল, এখন সেটা এক দশমিক ৩ শতাংশ। অনেক কমেছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের উপকরণ ব্যবহারের হার আগে ছিল ৮ শতাংশ। এটা এখন প্রায় ৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এটা আমরা আরও বেশি আশা করি। এই করোনার মধ্যেও আমাদের কর্মীরা বিতরণের কাজটি অব্যাহত রেখেছেন।

করোনা মহামারি বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয় ‘অধিকার ও পছন্দই মূলকথা: প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার প্রাধান্য পেলে কাঙ্ক্ষিত জন্মহারে সমাধান মেলে।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সেরা প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। একইসঙ্গে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদককে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দেয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।