আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

গ্রেফতার এড়াতে দিয়েছিলেন সীমান্ত পাড়ি ই-অরেঞ্জের হোতা পুলিশ কর্মকর্তা বিএসএফের হাতে আটক

news-image

ই-কমার্সের নামে দেশ জুড়ে চলছে প্রতারণার মহোৎসব। ইভ্যালি থেকে শুরু করে ই-অরেঞ্জসহ এমন একাধিক অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার আলোচনা এখন সবখানে। ইতোমধ্যে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৭ আগস্ট ই-অরেঞ্জের মালিক-পৃষ্ঠপোষকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা। মামলা হলেও দেশে অধরা ছিলেন অনলাইনে পণ্য বিক্রির এই প্লাটফর্মের কথিত মালিক ও নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা। তবে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে গিয়ে শনিবার আটক হয়েছেন প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তা। অথচ গত বৃহস্পতিবার রাতেও কর্মস্থল রাজধানীর বনানী থানায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে থেকেই মাথায় চুল কম ছিল, তারপরও মাথা ন্যাড়া করে চেহারা কিছুটা পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলেন সোহেল রানা। তারপরও ধরা পড়েছেন বিএসএফের হাতে। ভারত থেকে অবৈধভাবে নেপালে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফ তাকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম।
বনানী থানার ওসি মো. নুরে আযম মিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতেও থানায় ডিউটিতে ছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা। মাঝখানে শুক্রবার থানায় আসেননি তিনি। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার তার খোঁজখবরও নেওয়া হয়নি। শনিবারও থানায় না আসায় ফোন করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।’ ওসি আযম মিয়া বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে সোহেল রানা ভারতে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন বলে জেনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও একইভাবে জেনেছেন।

শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে শুক্রবার রাতে কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত থেকে সোহেল রানা নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিনি। বিএসএফ বলেছে, আটকের সময় তার কাছ থেকে বিদেশি পাসপোর্ট, একাধিক মোবাইল এবং এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। শনিবার মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বিএসএফ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, সম্ভবত গা-ঢাকা দেওয়ার লক্ষ্যে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন সোহেল রানা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সোহেল রানাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের’ (বিজিবি) পরিচালক (অপারেশন্স) লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘আনঅফিসিয়ালি সোহেল রানা আটকের খবর পেয়েছি। বিএসএফ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিবিকে অফিসিয়ালি জানায়নি।’
সোহেল রানার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিবির মুখপাত্র ফয়জুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনে তারা ব্যবস্থা নেবে। এরপর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনা হবে।’

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, এসআই হিসেবে পুলিশে যোগ দেওয়া সোহেল রানা শুরু থেকেই প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গুলশান থানায় দীর্ঘদিন এসআই হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এসআই থাকা অবস্থায় দামি প্রাইভেটকার নিয়ে চলাফেরা করতেন তিনি। তার ব্যাপক অবৈধ আয় রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যেগুলো নামে বেনামে বা স্বজনদের মাধ্যমে ভোগ করছিলন তিনি। পরিদর্শক পদে পদোন্নতির পর মূলত নেপথ্যে থেকে টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসার মোড়ক লাগান। কিন্তু সেখানেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মালিকানায় নিজের নাম রাখেননি। বোন সোনিয়া মেহজাবিনকে ই-অরেঞ্জের মালিকানার পদে রাখেন বলে জানা যায়।

গত ১৭ আগস্ট অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পরও মাসের পর মাস পণ্য না পাওয়ায় ই-অরেঞ্জের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রতারণার শিকার গ্রাহক মো. তাহেরুল ইসলাম। এ সময় প্রতারণার শিকার আরও ৩৭ জন ব্যক্তি তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই মামলা হয়।

আসামিরা হলেন- ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, আমানউল্ল্যাহ, বীথি আক্তার, কাউসার আহমেদ এবং পুলিশের বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা। এরপর গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ৩১ আগস্ট ইশতিয়াক হোসেন টিটু নামে আরেকজন ভুক্তভোগী সোহেল রানা ও উপরোক্ত অধিকাংশ আসামিসহ ই-অরেঞ্জের ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ই-অরেঞ্জের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানা। তবে অরেঞ্জ বাংলাদেশ নামে প্রতিষ্ঠান খুলতে নেওয়া টিআইএন সনদে পরিচালক হিসেবে পাওয়া গেছে সোহেল রানার নাম।

এ জাতীয় আরও খবর