আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ঘর দেওয়ার কথা বলে মেম্বারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

news-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ২ জন টাকা ফেরত চেয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরোয়ার তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছেন।

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তার ওয়ার্ডের হানিফ মিয়া ও সেলিনা আক্তারসহ অনেকের কাছ থেকে ঘর পাইয়ে দিতে টাকা নেন। দীর্ঘদিন হয়ে গেলে ঘর না পাওয়ায় তারা একাধিকবার ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের নানাভাবে টালবাহানা ও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী দুইজন টাকা ফেরত ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরোয়ার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদকে প্রধান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পবিত্র চন্দ্র মণ্ডলকে সদস্য সচিব ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাবেয়া সুলতানা ইভাকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৫ কর্মদিবসে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার বলেন, আমাকে ঘর দেবে বলে খরচা হিসেবে মেম্বার শফিক আমার কাছ থেকে ১৯ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমি ধারদেনা ও ছাগল বেচে এই টাকা তাকে দিয়েছি। এতদিনেও ঘর না পাওয়ায় আমি ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছি।

ভুক্তভোগী হানিফ মিয়া বলেন, আমি গরিব মানুষ, আমার ঘর নাই। মেম্বার কইছে ১০ হাজার টাকা দিলে নতুন ঘর পামু; এ কারণে ধারদেনা কইরা টাকা দিছি। দুই বছরের বেশি হয়ে গেছে এখনো ঘর দেয় নাই। বিভিন্ন সময়ে টাকা ফেরত চাইছি কিন্তু সে টালবাহানা করে আসছে; তাই টাকা ফেরত পেতে ইউএনওর কাছে আবেদন করেছি।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদ বলেন, বুধবার চিঠি পেয়েছি; আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে আমরা সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেব ইউএনওর কাছে।

রূপসদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মিয়া বলেন, শফিক মেম্বার ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন বলে আমি শুনেছি। এ ধরনের কাজ সত্যিই দুঃখজনক।

ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সরোয়ার জানান, রূপসদী ইউনিয়নের শফিক মেম্বার প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন- এমন অভিযোগে দুজন ব্যক্তি আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি এ বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।