আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

চিড়িয়াখানা খুলতেই মানুষের ঢল, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

news-image

প্রাণ ফিরেছে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। করোনা মহামারির কারণে প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল শুক্রবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি। গতকাল খুলে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চিড়িয়াখানা।

করোনার কারণে যারা অনেক দিন ধরে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেনি, এমন অনেকেই চিড়িয়াখানায় এসে যেন হাফ ছাড়েন। সবুজ গাছপালায় ঘেরা এই চিড়িয়াখানায় এসে বুক ভরে শ্বাস নেন। করোনা ঝুঁকির মধ্যেও মানুষের আনন্দের কমতি ছিল না। বিশেষ করে শিশুরা এতদিন পর চিড়িয়াখানায় আসতে পেরে তো মহাখুশি। বিশেষ করে বন্ধের সময় চিড়িয়াখানায় নতুন জন্ম নেওয়া প্রাণীদের দেখতে তারা বেশ আগ্রহী। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের মতোই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে। তবে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রতি মাসের প্রথম রবিবারও চিড়িয়াখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, গতকাল সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২২ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয় সেখানে।
গতকাল সারা দিনই রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হয় মাঝেমধ্যে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে মেঘবৃষ্টি উপেক্ষা করেই দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানায় যান। তবে অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেননি, পরেননি মাস্ক। জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনার্থীদের চিড়িয়াখানায় প্রবেশ ও পরিদর্শন করতে হবে। এছাড়া প্রাণীদের ঝুঁকি এড়াতে জাতীয় চিড়িয়াখানায় বিশেষ কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যেমন দর্শনার্থীদের প্রবেশের গেটে তিন ফুট দূরত্বে একটি লাল বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরে ভেতরে ঢুকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘোরাফেরা করতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে গত ২ এপ্রিল থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখা হয়। এর আগে ২০২০ সালে আট মাস বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর খুলে দেওয়া হয়েছিল রাজধানীর এই বিনোদন কেন্দ্রটি। চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকাকালে সেখানে কিছু সংস্কারকাজও হয়েছে।
দীর্ঘ বন্ধের মধ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ৩৫০টির মতো প্রাণী জন্ম নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক আব্দুল লতিফ। তিনি জানান, পাখির মধ্যে ময়ূর ১৩০টির বেশি, ইমু ২৩টি, বক ৮০টির বেশি (কানি, নিশি, পানকৌড়ি ও ফ্লেমিঙ্গো বক) বাচ্চা দিয়েছে। এর মধ্যে কিছু বক প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চিত্রা হরিণ জন্ম নিয়েছে ৭০টির বেশি। দুটি ব্যাঘ্র শাবকেরও জন্ম হয়েছে। এছাড়া জলহস্তির একটি বাচ্চা, দক্ষিণ আফ্রিকান ইম্পালা দুটি, গাধা তিনটি, জেব্রা দুটি, কমন ইলেন একটি এবং আফ্রিকান হর্সের তিনটি বাচ্চার জন্ম হয়েছে।
জানা গেছে, নিরিবিলি পরিবেশ, উত্তম পরিচর্যা, ভালো খাবার চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোর প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান সংকুলান কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে আটটি গাধা ও আটটি জলহস্তী রাখার সক্ষমতা আছে। কিন্তু এখন জলহস্তীর সংখ্যা ১৪টি, গাধার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫টি। এছাড়া সংখ্যা বাড়ায় বন্ধের মধ্যে ৫১টি চিত্রা হরিণ বিক্রি করা হয়েছে ৩৬ লাখ টাকায়। আর ময়ূর বিক্রি হয়েছে ১১টি, ৩ লাখ টাকায়। দেশ ও বিদেশের চিড়িয়াখানার অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে বিনিময়ের চেষ্টাও চলছে।

এ জাতীয় আরও খবর

১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চাষাঢ়া-খাঁনপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ক কাজ এগিয়ে চলছে

এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপে শিবালয়ের যমুনা ড্রেজার মুক্ত

নারায়ণগঞ্জে বাস চাপায় ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী নিহত : অভিযুক্ত চালক গ্রেপ্তাার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাসোহারা না দেয়ায় নির্যাতন, এএসআই ক্লোজড

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নারায়ণগঞ্জে অটোরিক্সা চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযান, গ্রেপ্তার ১৪

সিদ্ধিরগঞ্জে লন্ডন প্রবাসীকে মৃত দেখিয়ে প্রবাসীর বাড়ী দখল

ঘিওরে নবাগত ওসির সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঘুমন্ত স্বামীর বিশেষ অঙ্গন কর্তন, স্ত্রী গ্রেপ্তার

‘লাল পতাকা দেখালেও কথা শুনেনি চালক’

ধলেশ্বরী নদী থেকে মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার