আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

চেয়ারম্যানের একগুঁয়েমিতে মানবিক সহায়তা বঞ্চিত হতদরিদ্ররা!

দলীয় বরাদ্দ না দেওয়ার পক্ষে অনড় থেকে ঈদ উপলক্ষে সরকারের দেওয়া বিশেষ ভিজিএফ বরাদ্দ বিতরণ করেননি ইউপি চেয়ারম্যান। এতে ওই ইউনিয়নের ৭ হাজার ৩৮ জন হতদরিদ্র বঞ্চিত হয়েছে তাঁদের প্রাপ্য থেকে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকায়। আলোচনা-সমালোচনাও চলছে। এ ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইলের ৪ নং চন্ডীপাশা ইউনিয়নের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ৭২ হাজারের বেশি হতদরিদ মানুষকে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে সহায়তা বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের একগুঁয়েমির কারণে চন্ডীপাশা ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। কেন ওই সব হতদরিদ্ররা তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হলেন সে সম্পর্কে কারো কাছ থেকে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অনুমোদিত তালিকা ও সরকারি দলের নেতাদের করা তালিকা সমন্বয় না হওয়ায় মানবিক সহায়তা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে জানার জন্য চন্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে গত দুই দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কথা বলা যায়নি। তাঁর ফোন খোলা থাকলেও ফোন রিসিভ করেননি। তবে চন্ডীপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আবদুল কাদির বলেন, সকল ইউনিয়নেই দলীয় লোকদের জন্য একটা অংশ রেখে চেয়ারম্যানরা মেনে নিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। এ ক্ষেত্রে শুধু চন্ডীপাশা ইউনিয়নই ব্যতিক্রম। তিনি একগুঁয়েমি করে এ কাজটি করেছেন। তাঁর কারণেই অসহায় হতদরিদ্র লোকজন তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪১১ জন। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ৪৫০ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। উপজেলা মানবিক সহায়তা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হচ্ছেন নান্দাইলের ইউএনও মো. এরশাদ উদ্দিন। তিনি বলেন, মানবিক কারণে হলেও বরাদ্দটা বিতরণ করা প্রয়োজন ছিল।

চন্ডীপাশা ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির তদারকি কর্মকর্তা হচ্ছেন, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শেখ মো. সালাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁর কাছে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল সেটিতে ইউপি সচিবের স্বাক্ষর ছিল না। তাই তিনি ওই তালিকায় প্রতিস্বাক্ষর করেননি।

kalerkantho
এই র