আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

চেয়ারম্যান পদে এখনো বহাল তবিয়তে … নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যানকে আ. লীগের সভাপতি পদ থেকে বরখাস্ত!

news-image

মাদক সেবন, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসলাম মৃধাকে অবশেষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ‘সভাপতি’ পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৭ এপ্রিল) নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিমের স্বাক্ষরযুক্ত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল কালের কণ্ঠের কাছে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম মৃধার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সেবন ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপসহ তার পরিষদের সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে বিগত সময়ে বহুল আলোচিত চেয়ারম্যান আসলাম মৃধার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে চেয়ারম্যান আসলাম মৃধা কিভাবে মাদক সেবন করেন, সেই দৃশ্য সুস্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ খোদ আওয়ামী লীগেও প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগের নেতা এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘মাদকসেবী চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসলাম মৃধার অব্যাহতভাবে চলা এসব নানান অপকর্মের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। তাই দল থেকে তার বরখাস্ত যথার্থ হয়েছে বলে আমরা করি।’

আলী আহাম্মদ নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদটির ইমেজ আরো বিনষ্ট হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগ থেকে বরখাস্তের পর এখন তাকে দ্রুত কাইতলা ইউপি’র চেয়ারম্যান পদ থেকেও বরখাস্ত করা উচিৎ।’

নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে দলের ইউনিয়ন সভাপতি পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তের চিঠি প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি প্রদানে ব্যর্থ হলে স্থায়ীভাবে ওই চেয়ারম্যানকে আমরা দল থেকে বরখাস্ত করব।’

এদিকে একজন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকার পরও কিভাবে তিনি এখনো চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিক রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থাকা নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলো উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’