আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

জোঁকা বিলের মাছ নিয়ে ফের উত্তেজনা

বর্ষায় পানি, শুষ্ক মৌসুমে ফসলের ক্ষেত। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জলাভূমির নাম ‘জোঁকা বিল’। এর আয়তন প্রায় দুই হাজার ২০০ বিঘা। প্রতি বছর এই বিল থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ আহরণ ও বিক্রি করা হয়। লাভের টাকা ভাগ হয় উপকারভোগী বা জমির মালিকদের মাঝে। বিলের মাছ বিক্রি ও টাকার ভাগ-বণ্টনের জন্য রয়েছে বিল ব্যবস্থাপনা কমিটি।

এদিকে মাছ বিক্রির টাকার হিসাব নিয়ে অতীতে বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, প্রাণহানিও ঘটেছে। আহতও হয়েছেন অনেকে। এখন মাছ ধরার মৌসুমে মাছ বিক্রির টাকার ভাগ-বণ্টণ নিয়েই আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উত্তেজনা নিরসনের জন্য বিলের দুইজন উপকারভোগী রোববার রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিলে প্রায় ৭০০ ব্যক্তির জমি রয়েছে। আর মাছ চাষের জন্য ৩২ সদস্যের একটি বিল ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে মাছ ছাড়া হয়। শুষ্ক মৌসুমে মাছ আহরণ করা হয়। এলাকাবাসী এবং যাদের জমি রয়েছে তারা উপকারভোগী হিসেবে মাছ বিক্রির টাকার আনুপাতিকহারে ভাগ পান। বিলে মাছ চাষের জন্য কমিটি শুষ্ক মৌসুমে জমির মালিকদের ফসল চাষাবাদের জন্য সেচের ব্যবস্থা করে দেয়। এর খরচ বহন করে কমিটি।

এসপির কাছে দেয়া আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান কমিটির সভাপতি নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দুই বছর ধরে বিলের মাছ বিক্রির আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব দিচ্ছেন না। কেউ হিসাব চাইলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। মারধর করা হচ্ছে। টাকার হিসাব চাওয়ার কারণে সম্প্রতি সভাপতি-সম্পাদকের সমর্থকরা বাসুদেবপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।

এর আগে ২০১৮ সালে আয়-ব্যয়ের হিসাবকে কেন্দ্র করে কমিটির কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান মৃধা খুন হন। এরপর প্রশাসন সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে আবদুর রশিদ ও আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন কমিটি করে দেয়। কিন্তু এই কমিটির বিরুদ্ধেও এবার অভিযোগ তুললেন উপকারভোগীরা।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার প্রথম বছরে দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছিল। এবার ইতোমধ্যে দুই কোটি ৪৬ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। আরও মাছ আছে। শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিলের জমির মালিকদের বছরে ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকার সেচ খরচ দিতে হয়। মাছ চাষের জন্যও কিছু টাকা রাখতে হয়। সব হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ হিসাব পরে উপস্থাপন করা হবে।

টাকা নয়ছয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ৩২ সদস্যের কমিটি আছে। যারা অভিযোগ করছেন তারা তো এ কমিটির সদস্য নন। তারা সাধারণ সদস্য। কমিটির সদস্য আমাকে এ কথা বললে বুঝতাম আমার কোথাও ভুল হচ্ছে। সাধারণ উপকারভোগীর কথার তো কোনো দাম নেই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, একটা লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যা করা প্রয়োজন তারা তা করবেন