আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ট্রেনে বেড়েছে ঢাকায় ফেরা যাত্রীর চাপ

news-image

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার (২৩ জুলাই) ভোর থেকে আবারো শুরু হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন)। এজন্য আজই ঈদে ঘরেফেরা মানুষের অনেকেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রী বোঝাই করে ফিরছে প্রতিটি ট্রেন। তবে সড়ক পথে ফেরার চেয়ে এখনো ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সংখ্যাই বেশি। বরাবরের মতোই স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে পাশাপাশি আসনে বসিয়ে যাত্রা করছে বাস।

এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বিধিনিষেধ শিখিলের গুজবে কান না দিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবারই (২২ জুলাই) ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ৭ দিনের জন্য বিধিনিষেধ শিখিল করার শেষ দিন। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে আবারো শুরু হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ। এরইমধ্যে বিধিনিষেধ শিথিল হয়েছে এমন গুজবও ছড়িয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সাফ জানিয়েছেন, এবারের বিধিনিষেধ হবে আরও কঠোর। বন্ধ থাকবে সব শিল্প-প্রতিষ্ঠান।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, যেহেতু অফিস আদালত, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও রপ্তানিমূলক কাজ সবেই বন্ধ থাকবে, সেহেতু এ পর্যন্ত যতগুলো সর্বাত্মক কঠোর বিধি-নিষেধ হয়েছে। এবারের বিধি-নিষেধ গতবারের চেয়েও কঠোর হবে।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করার জন্য মাঠে পুলিশের পাশাপাশি এবারও থাকছে বিজিবি ও সেনাসদস্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা গিয়েছে (ঈদে বাড়ি ফেরা) তারা কিন্তু জানে যে সবকিছু বন্ধ থাকবে। তারা সময় নিয়ে গিয়েছে, তারা যেন ৫ তারিখের পরই আসে।

তাই প্রিয়জনদের সঙ্গে স্বল্প সময়ের ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া মানুষের। সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে উপচে পড়া যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাকায় ফেরে ট্রেন।

ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে যোগদানের জন্যই ফিরেছেন তারা। এছাড়ার অনেকেই ঈদের একদিন পরই ফিরেছেন শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের পূর্ব ঘোষণার কারণেই। তারা বলছেন, এর পরের লকডাউন কবে শেষ হবে তা নিশ্চিত নই। তাই তাড়াতাড়িই ফিরে এসেছি।

ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেশি থাকলেও শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগের দিনের চাইতে পরের দিন চাপ বেশি হয়েছে। আমরা আশা রাখছি, সারা দিনই সিডিউল অনুযায়ি ট্রেন চালাতে পারব। সিডিউল বিপর্যয় ঘটবে না।

তবে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার চেয়ে রাজধানী ছাড়ার যাত্রী বেশী। বাস টার্মিনালগুলোতে ছিল ভিড়। ঈদের পর দিন ঢাকা ছেড়ে যাওয়া যাত্রীরা বলেন, ঈদে কাজের কারণে ঢাকায় থেকেছি। আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে আবারো লকডাউন। এরপর আবার কবে যেতে পারব জানি না। তাই আগেই চলে যাচ্ছি।

অনেকেই ঈদের আগে রাস্তায় ভিড় থাকায় ঈদের পরের দিন ঢাকা ছাড়ছেন বলেও জানান। তবে বাসের এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের। তারা বলেন, কথা ছিল এক সিটে একজন। কিন্তু পাশাপাশি দুই সিটেই যাত্রী নিচ্ছে। কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে চার সিটের।

একইভাবে বাস কাউন্টারগুলোতেও উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। বাসের ভেতরেও জীবানুনাশক ছেটাতে দেখা যায়নি। প্রায় সবকটি বাসই অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে পাশাপাশি সিটে যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে।